
ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রূপ বদলের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালক (ক্রয় ও সংরক্ষণ) এ কে এম আরিফ উদ্দিন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠতা ও অনুগত ভূমিকা পালন করে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী এই কর্মকর্তা এখন নিজেকে ‘সাবেক ছাত্রদল কর্মী’ দাবি করছেন। তবে তাঁর বিগত দিনের রাজনৈতিক কার্যক্রম, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং সম্প্রতি কেনা সনদপত্র নিয়ে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক মহলে তুমুল সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
‘রুখে দাও লেলিহান’ ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আগমন ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে তৎকালীন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের লিখিত ‘রুখে দাও লেলিহান’ ও ‘জাতীয় সংসদে শাহজাহান খান এমপি’ শীর্ষক দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে তৎকালীন যুগ্ম পরিচালক আরিফ উদ্দিনকে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও আওয়ামী লীগের পক্ষের লড়াকু সৈনিক’ আখ্যা দিয়ে প্রশংসা করেন শাহজাহান খান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার ‘রুখে দাও লেলিহান’ গ্রন্থটির নামকরণের পাশাপাশি সম্পূর্ণ প্রচ্ছদ ও প্রকাশনার সার্বিক দায়িত্ব নিজ খরচে ফকিরাপুলের পানগুছি প্রিন্টার্স থেকে সম্পন্ন করেন আরিফ উদ্দিন। গ্রন্থটিতে বিএনপি-জোটের আন্দোলনকে ‘অগ্নি সন্ত্রাস’ ও নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। বই প্রকাশের এই সহযোগিতার মাধ্যমেই আরিফ উদ্দিন মন্ত্রী শাহজাহান খানের অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন এবং বিআইডব্লিউটিএ-তে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন।
আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতা ও সম্পদের পাহাড় প্রাপ্ত আলোকচিত্র ও অন্যান্য নথিপত্রে দেখা যায়, আরিফ উদ্দিন বিগত সরকারের আমলে বিআইডব্লিউটিএ বঙ্গবন্ধু পরিষদের মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়েছেন, শোক দিবসে কালো ব্যাজ ধারণ করে র্যালিতে অংশ নিয়েছেন এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন।
তিনি সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলতেন। অভিযোগ রয়েছে, এই ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
নারী কেলেঙ্কারি ও অলৌকিক পুনর্বহাল আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পরকীয়া সম্পর্কের মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে তাঁর অসংলগ্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরিবারকে লন্ডনে রেখে দেশে প্রতারণামূলক ফাঁদ পেতে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও উঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
সরকারি কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা ও নৈতিক স্খলনের দায়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করলেও রহস্যজনক কারণে কিছুদিন পরই সেই বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়।
ভুয়া সনদপত্র ও ক্ষোভ ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজেকে বাঁচাতে আরিফ উদ্দিন রাতারাতি অবস্থান বদল করেন। একদা ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন দাবি করে তিনি একটি সনদপত্র জোগাড় করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আওয়ামী সরকারের চরম সুবিধাভোগী এই কর্মকর্তা হঠাৎ ‘নিবেদিতপ্রাণ বিএনপি কর্মী’ বনে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা। বিগত সরকারের আমলে তাঁর যাবতীয় অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপকর্ম তদন্তের জন্য বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনলাইন ডেস্ক 





















