
আদানি পাওয়ারের ঝাড়খন্ডভিত্তিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার (ঝাড়খন্ড) লিমিটেড (এপিজেএল) মূল প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার লিমিটেডের (এপিএল) সঙ্গে একীভূত হয়েছে। ভারতের ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (এনসিএলটি) এই একীভূতকরণের অনুমোদন দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) এবং প্রায় ৮,৭০০ কোটি টাকার (৭১১.৭২ মিলিয়ন ডলার) পাওনা সংক্রান্ত চলমান বিরোধের মধ্যে এই পরিবর্তনের ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে আইন ও বিচার বিভাগের মতামত চাওয়া হয়েছে।
মূল বিষয় ও প্রশ্নাবলী:
-
বিদ্যুৎ চুক্তি ও একীভূতকরণ: ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর পিডিবি ও এপিজেএলের মধ্যে ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ২৫ বছর মেয়াদী চুক্তি সই হয়, যাতে পরবর্তীতে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি যুক্ত হয়। এখন কোম্পানি একীভূত হওয়ার পর বিদ্যমান চুক্তি বহাল থাকবে কি না এবং এপিএলকে নতুন পক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চুক্তিতে কোনো নতুন সংশোধনীর প্রয়োজন আছে কি না, তা স্পষ্ট করতে চায় সরকার।
-
চলমান বিরোধ ও আরবিট্রেশন: বিদ্যুতের বিল এবং বিভিন্ন কর্তনের হিসাব নিয়ে দ্বিমতের কারণে আদানি পাওয়ারের দাবি করা প্রায় ৭১১.৭২ মিলিয়ন ডলারের পাওনা নিয়ে বিরোধ গড়িয়েছে সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারে (সিয়াক)।
-
হাইকোর্টে রিট মামলা: আদানির সঙ্গে করা এই বিদ্যুৎচুক্তির আইনি ভিত্তি ও শর্তাবলি নিয়ে বাংলাদেশের হাইকোর্টে বর্তমানে দুই পৃথক রিট আবেদন বিচারাধীন রয়েছে।
-
আইনি জটিলতা ও সরকারের অবস্থান: কোম্পানি একীভূত হওয়ার ফলে পুরোনো কোম্পানির সব দায়-দায়িত্ব ও অধিকার নতুন কোম্পানির ওপর কীভাবে বর্তাবে এবং চলমান আইনি লড়াই ও সালিশির মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে কোনো পরিবর্তন আনলে তা বাংলাদেশের স্বার্থে বা মামলার ফলাফলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না—তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের মতে, একীভূতকরণের এই প্রস্তাবের বিষয়ে বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বকেয়া পরিশোধ, কয়লার মূল্য নির্ধারণ এবং চলমান মামলার আইনি জটিলতার কারণে চূড়ান্ত কোনো চুক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























