
উপমহাদেশের বিশিষ্ট মার্কসবাদী-লেনিনবাদী তাত্ত্বিক, ফ্যাসিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কমিউনিস্ট বিপ্লবী এবং জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কমরেড বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনাসভার আয়োজন করে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের সারসংক্ষেপ
-
সভাপতি: ফয়জুল হাকিম (কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল)
-
সঞ্চালক: আমীর আব্বাস (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন)
বক্তাদের বক্তব্য ও স্মরণ
আলোচনাসভায় বদরুদ্দীন উমরের জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনের ওপর আলোকপাত করে বক্তব্য দেন দেশের বিভিন্ন প্রগতিশীল ও বিপ্লবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ:
-
ফয়জুল হাকিম: তিনি বলেন, কমরেড বদরুদ্দীন উমর আজীবন শ্রমিক, কৃষক ও নিপীড়িত জনগণের মুক্তির আন্দোলনে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন। ষাটের দশকে রচিত তাঁর ‘সাম্প্রদায়িকতা’, ‘সংস্কৃতির সংকট’ ও ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’ বইগুলো তৎকালীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছিল। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ কর্তৃক ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে তিনি সরব ভূমিকা পালন করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, উমরের মতে—বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর নতুন শাসক শ্রেণির হাতে প্রথম শহীদ হয়েছিল ‘ইতিহাস’। এছাড়া, কমরেড সইফ উদ দাহার ও দেবেন শিকদারকে নিয়ে ‘বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)’ গঠনে তাঁর অসামান্য অবদান ছিল।
-
সজীব রায় (সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশন): তিনি মন্তব্য করেন, বিপ্লবী আন্দোলনের যে পথ বদরুদ্দীন উমর নির্দেশ করে গেছেন, তা বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব এখন তাঁর সংগঠন ও অনুসারী কমরেডদের কাঁধে।
-
পাভেল চৌধুরী (সভাপতি, বাংলাদেশ লেখক শিবির): তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বদরুদ্দীন উমর ভাষা আন্দোলনকে একটি সর্বজনীন গণতান্ত্রিক আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন এবং ‘লেখক শিবির’-এর মাধ্যমে বিপ্লবী কর্মী তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন।
অন্যান্য বক্তা
সভায় আরও বক্তব্য উপস্থাপন করেন মজিবর রহমান, ভুলন ভৌমিক, ডা. আবদুল হাকিম, আফজালুল বাসার, মিনহাজ আহমেদ এবং সৌরভ রায়।
সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অবস্থান ও জাতীয় দাবি
স্মরণসভার পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষায় কড়া বক্তব্য রাখেন সভাপতি ফয়জুল হাকিম। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি’ অবিলম্বে জাতীয় সংসদে বাতিলের দাবি জানান এবং বাংলাদেশকে কোনো সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ জোটে না জড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
অনলাইন ডেস্ক 


















