
দেশের তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি জোরদার করতে ‘উদ্যোগ’ নামে নতুন এক অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা পাবেন।
রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট’ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধানদের বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মূল তথ্য ও সুযোগ-সুবিধা
-
অর্থায়নের ধরন: এটি একটি ‘ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স’ মডেল। মোট চাহিদার ৫০% পাওয়া যাবে ব্যাংকঋণ হিসেবে এবং বাকি ৫০% অনুদান বা ম্যাচিং গ্র্যান্ট হিসেবে। (উদাহরণস্বরূপ: ১২ লাখ টাকার প্রয়োজন হলে ৬ লাখ টাকা ঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে সরাসরি উদ্যোক্তার অ্যাকাউন্টে জমা হবে।)
-
সর্বোচ্চ সীমার সুবিধা: একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ এবং ১০ লাখ টাকা অনুদানসহ মোট ২০ লাখ টাকা পাবেন।
-
শর্তাবলী: ঋণের অর্থ ব্যবহারে অপব্যবহার হলে কিংবা নিয়মিত পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অংশটি সুদমুক্ত ঋণে রূপান্তরিত হবে এবং আইন অনুযায়ী আদায় করা হবে।
-
অতিরিক্ত সহায়তা: অর্থায়নের পাশাপাশি ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের ট্রেড লাইসেন্স বা নিবন্ধন, আর্থিক প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং এবং বাজার সংযোগ তৈরিতে সাহায্য করবে।
যোগ্য খাতের তালিকা
নতুন বা বিদ্যমান—যেকোনো বৈধ ব্যবসাই এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত হতে পারবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
-
কারিগরি স্টার্টআপ
-
কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ
-
হালকা প্রকৌশল (Light Engineering)
-
নবায়নযোগ্য জ্বালানি
-
হস্তশিল্প
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলী
-
বয়সসীমা: আবেদন জমাদানের শেষ তারিখে বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে।
-
নাগরিকত্ব: আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা ও বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে।
-
অযোগ্যতা:
-
পূর্বে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক ঋণ নেওয়া ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারবেন না।
-
সিআইবি (CIB) প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি হিসেবে নাম থাকলে আবেদন বাতিল হবে।
-
সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এ সুবিধার বাইরে থাকবেন।
-
আবেদন ও বাছাই প্রক্রিয়া
১. ফরমে আবেদন: যে কোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখা থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। প্রতিটি উপজেলার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ‘লিড ব্যাংক’ নির্ধারণ করে দেবে। ২. যাচাই-বাছাই: উপজেলা ও জেলা লিড ব্যাংকের মাধ্যমে জমা পড়া আবেদনগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হবে। ৩. চূড়ান্ত নির্বাচন: বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, শিক্ষাবিদ ও সফল উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্যানেল ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, বাজার সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থান তৈরির সক্ষমতা দেখে উদ্যোক্তা বাছাই করবে। ৪. ঋণ ছাড়: চূড়ান্তভাবে মনোনীত উদ্যোক্তাদের আবেদন ১৭ কার্যদিবসের মধ্যে অনুমোদন করা হবে।
অনলাইন ডেস্ক 

























