Dhaka ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নাসিরনগরে উপজেলা বিএনপির ইউনিয়ন ভিত্তিক সাংগঠনিক সভার কর্মসূচি ঘোষণা‎‎ গোপালগঞ্জে বিনা ধান-২৬ চাষে ব্যাপক ফলনের সাফল্য পোরশায় স্থানীয়দের সহায়তায় ৩ খুচরা মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৩২ পিস ট্যাপেন্টাডল জব্দ এম এন লারমার স্মৃতিতে লোগাংয়ে ফুটবলের উৎসব রাণীনগরে প্রতিকূল আবহাওয়ায় ধান ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি গোপালগঞ্জ কলেজের চুরির অভিযোগে ছাত্রদল সভাপতি আটক চট্টগ্রাম কাস্টমসের ওমর কাউসার ও সুমন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ, নীরব কর্তৃপক্ষ জরিমানা ছাড়াই গাড়ির কাগজ ও লাইসেন্স হালনাগাদের মেয়াদ বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, ভোগান্তি এড়াতে অনতিবিলম্বে সুযোগ গ্রহণের পরামর্শ বিআরটিএ ও সচেতন মহলের! যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ফুলব্রাইটের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ ইউজিসির শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ: শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার আগ্রহ

ইস্কাটনে বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও জোড়া খুন: ৯ কোটির জালিয়াতি ঢাকতে পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ড, নেপথ্যে বিসিএস সমিতির কর্মকর্তা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : ০৯:১৯:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৪ বার

রাজধানীর ইস্কাটনের বিয়াম ফাউন্ডেশন ভবনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও দুজন নিহতের ঘটনাটি কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল প্রায় ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মুছে ফেলার এক হিমশীতল ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার মূল কারিগর বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতিরই প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম জাহিদুল ইসলাম।

যেভাবে আর্থিক জালিয়াতির সূত্রপাত

তদন্তের তথ্যমতে, ২০১৪ সাল থেকে ওই সমিতিতে কর্মরত থাকাকালে জাহিদুল সমিতির ৯টি ব্যাংক হিসাবের নিয়ন্ত্রণ নেন। প্রতিবছর পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তিত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে তিনি প্রায় ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। সংগৃহীত টাকায় ঢাকায় ৫ কাঠার প্লট ও অন্যত্র ২১ বিঘা জমি কেনেন তিনি। পরবর্তীতে সমিতির হিসাবরক্ষক মমিনুর রহমান চার লাখ টাকার হিসাবের গরমিল ধরে ফেললে জাহিদুল ক্ষিপ্ত হন এবং পুরো নথিপত্র পুড়িয়ে হিসাবরক্ষককে ফাঁসানোর ছক আঁকেন।

অর্থের লোভে চুক্তি ও কিলিং স্কোয়াড

নিজের অপকর্ম আড়াল করতে জাহিদুল ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে যুক্ত করেন চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য আশরাফুল ইসলামকে। এরপর পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে রাজি করানো হয় অফিস সহায়ক আব্দুল মালেককে এবং তিন লাখ টাকার বিনিময়ে গাড়িচালক ফারুক মীরকে এতে সম্পৃক্ত করা হয়।

সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণ ও পেট্রোল বোমা ছিটানো

ঘটনার দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ২টা ৩৪ মিনিটে আশরাফুল সিঁড়ি বেয়ে চার তলায় ওঠেন এবং সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেন। এরপর জাহিদুল, মালেক ও ফারুক ৫০৪ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, ব্যাংক চেকবই ও চুক্তিনামায় পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।

অপ্রত্যাশিত বিস্ফোরণ ও জোড়া মৃত্যু

আগুন মুহূর্তে পুরো কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে এবং কক্ষের এয়ার কন্ডিশনারে (এসি) বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন ধরাতে গিয়ে সেখানেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান অফিস সহায়ক আব্দুল মালেক। গুরুতর দগ্ধ গাড়িচালক ফারুক পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ মার্চ মারা যান।

তদন্তে মোড় ও বর্তমান অবস্থা

প্রাথমিকভাবে এসি বিস্ফোরণ মনে করা হলেও পিবিআইয়ের নিবিড় তদন্তে মোবাইল কল রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে আসল রহস্য উন্মোচিত হয়। পিবিআই ইতোমধ্যে জাহিদুল ও আশরাফুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তারা অপরাধ স্বীকার করেছে। অভিযুক্ত জাহিদুল বর্তমানে জামিন পাওয়ার পর পলাতক রয়েছেন এবং আশরাফুল জামিনে রয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

নাসিরনগরে উপজেলা বিএনপির ইউনিয়ন ভিত্তিক সাংগঠনিক সভার কর্মসূচি ঘোষণা‎‎