
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতার ছায়া নেমে এসেছে। বিরোধী দলগুলোর টানা কর্মসূচি ও দেশব্যাপী বিক্ষোভের কারণে প্রতিদিন দেশটির ১২০ বিলিয়ন (১২ হাজার কোটি) রুপি পর্যন্ত অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব। বিশ্বমানের এই বাহ্যিক চাপের মুখে দেশের অভ্যন্তরে এমন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে তিনি ‘নিজে ডেকে আনা বিপদ’ বলে অভিহিত করেছেন।
পাকিস্তানের শীর্ষ গণমাধ্যম ‘ডন’ ও ‘জিও নিউজ’-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিরোধী দলগুলো যখন রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই সরকারের পক্ষ থেকে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হলো। বিশেষ করে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর ডাকা দেশব্যাপী কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে এই হিসাব তুলে ধরেছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশন।
খাতভিত্তিক সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ: অর্থনৈতিক সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে অর্থমন্ত্রী জানান, বিক্ষোভের প্রভাবে বিভিন্ন খাতে দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে:
-
সেবা খাত: আর্থিক সেবা, যোগাযোগ, খুচরা-পাইকারি ব্যবসা, পরিবহন ও হসপিটালিটি খাতে দৈনিক প্রায় ৮৬ বিলিয়ন রুপি ক্ষতি হতে পারে।
-
শিল্প খাত: ম্যানুফ্যাকচারিং, নির্মাণকাজ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ফলে দৈনিক ২৫ বিলিয়ন রুপি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
-
কৃষি খাত: খাদ্য ও কৃষি উৎপাদনে দৈনিক ক্ষতি পৌঁছাতে পারে ৯ বিলিয়ন রুপিতে।
-
সরকারি রাজস্ব: সার্বিক স্থবিরতার কারণে প্রতিদিন প্রায় ১৭ বিলিয়ন রুপির রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হতে পারে সরকার।
আইটি খাত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর প্রভাব: অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশটির আইটি খাতে রপ্তানি আয় ছিল ৮১১ মিলিয়ন ডলার (দৈনিক গড়ে প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার)। অতীতে সড়ক অবরোধ ও ইন্টারনেটের মতো যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে এই আইটি রপ্তানি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছিল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনীতির এই দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত মাশুল দিতে হয় দিনমজুর, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশ যখন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে, তখন রাজপথের সহিংসতার বদলে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
উত্তপ্ত রাজপথ ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা: পেট্রোলিয়ামের ওপর অতিরিক্ত লেভি বা কর প্রত্যাহারের দাবিতে ইতোমধ্যে জামায়াত-ই-ইসলামি ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেছে। অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি ও সংবিধান পুনরুজ্জীবনের দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বর পিটিআই-এর বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক রয়েছে।
এই বিক্ষোভ ঠেকাতে রাজধানী ইসলামাবাদে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শহরের প্রবেশপথগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে শত শত কন্টেইনার। সম্প্রতি ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এক রায়ে স্পষ্ট করেছেন, রাজনীতির নামে সাধারণ পথঘাট বা সরকারি ভবন দখল করার কোনো আইনি অধিকার রাজনৈতিক দলগুলোর নেই।
ইমরান খানের বোন আলিমা খান আটক: রাজনৈতিক এই উত্তেজনার মাঝেই রোববার লাহোর থেকে ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে আটক করেছে পুলিশ। ‘মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার অর্ডিন্যান্স’-এর আওতায় জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে তাকে ৩০ দিনের আটকাদেশ দিয়েছেন লাহোরের ডেপুটি কমিশনার। পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি ঘোষিত বিক্ষোভের আগে কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন।
অনলাইন ডেস্ক 

























