
দুর্দশাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এ ফিরতে শুরু করেছে গ্রাহকদের আস্থা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকে নতুন করে ২৭০০ কোটি টাকার আমানত জমা পড়েছে। পাশাপাশি এ সময়ে ৩২ হাজার ৭৪টি নতুন হিসাব খোলা হয়েছে, যার মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে আরও ৩৭৮ কোটি টাকা।
আমানতকারীদের পাওনা অর্থ নিশ্চিত করতে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ব্যাংক নোট ছাপিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার প্রদান করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ছিল একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের পাওনা ফেরত দেওয়া। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার পর ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৭৫ হাজার গ্রাহক ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন জমা দেন।
উল্লেখ্য, বিগত সরকারের সময়ে আর্থিক অনিয়ম ও চরম গাফিলতির কারণে এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী এবং ইউনিয়ন ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে এক্সিম ব্যাংক ছিল বিএবি-র সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে এবং অন্য চারটি ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের নিয়ন্ত্রণে।
আমানতকারীদের সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংক এ পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে, যা সুদসহ বর্তমানে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক খাতের সামগ্রিক স্থায়িত্ব ও আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে অতিরিক্ত এই ৫ হাজার কোটি টাকা প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, “গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সবাইকে টাকা পরিশোধ করা হবে, তাই গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”
পুনর্গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মোট পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে রূপান্তর করা হবে। এছাড়া আমানত বীমা তহবিল থেকে দেওয়া ১২ হাজার কোটি টাকার মাধ্যমে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের (সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানতে কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ বা কর্তন করা হবে না। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের মূল টাকা তোলার সুযোগ পাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনামতে, চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের মূল টাকা তোলা গেলেও আপাতত অর্জিত মুনাফা পাওয়া যাবে না। তবে যারা হিসাব চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী মুনাফা পাবেন।
অনলাইন ডেস্ক 

























