
এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন মাত্র ২৩৫ ইউনিট। নিয়ম অনুযায়ী এই বরাদ্দের বিল আসার কথা ১ হাজার ৯৬৩ টাকা (বিলম্ব ফি-সহ ২ হাজার ৫৬ টাকা)। কিন্তু গ্রাহকের হাতে আসা বিলে টাকার পরিমাণ দেখে আঁতকে ওঠার অবস্থা! তাতে লেখা—৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা! নির্ধারিত সময়ের পর পরিশোধ করলে যা দাঁড়াবে প্রায় ৫৩১ কোটি টাকায়।
অবিশ্বাস্য ও ভূতুড়ে এই ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামে। সেপ্টেম্বর মাসের এই ভূতুড়ে বিল হাতে পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুন। অস্বাভাবিক এই বিলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও হাস্যাস্পদ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কাগজে-কলমে দেখা যায়, মূল বিদ্যুৎ বিল স্বাভাবিক থাকলেও বিপত্তি বেঁধেছে ‘ডিমান্ড চার্জ’-এর ঘরে। সেখানে যুক্ত করা হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা! এর সাথে আবার যোগ করা হয়েছে ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার বেশি ভ্যাট।
ভুক্তভোগী আলেয়া খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা শুধু ভূতুড়ে নয়, একদম আজগুবি বিল! বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এমন দায়িত্বহীন ভুলের উপযুক্ত প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন।”
বিষয়টি নিয়ে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন কর্মকর্তারা।
-
“গ্রাহকের মিটার পরিবর্তন করার পর সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ভুলবশত বিলে ‘ডিমান্ড চার্জ’-এর ঘরে টাইপ হয়ে গিয়েছিল। ফলে এই অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়। বিলটি ইতিমধ্যেই সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
-
“এটি মূলত টাইপিং ভুলের (Typing Mistake) কারণে ঘটেছে। বিলটি সংশোধন করে দেওয়ার পর গ্রাহক তাঁর প্রকৃত বিল পরিশোধও করেছেন। জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
ভুল সংশোধন করা হলেও বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগে এতো বড় মাপের ভুল কীভাবে নজর এড়িয়ে যায়, তা নিয়ে জনমনে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের হয়রানির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন মহল।
অনলাইন ডেস্ক 

























