
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনার অজুহাতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রবর্তিত লটারিভিত্তিক বদলি ও পদায়ন পদ্ধতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের অন্যতম শীর্ষ অবকাঠামো নির্মাণ সংস্থটিতে এমন লটারি প্রথা চালু করায় দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বা ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
কারিগরি ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রতিটি প্রকল্পের ধরন ও স্থান অনুযায়ী বিশেষ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, লটারি একটি ‘অন্ধ প্রক্রিয়া’। এতে কার দাপ্তরিক অভিজ্ঞতা বেশি কিংবা কে মাঠপর্যায়ের জটিল কাজ নিয়ন্ত্রণে দক্ষ—তা বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নেই।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হাত থেকে পদায়ন ও সুপারিশের এখতিয়ার চলে যাওয়ায় মাঠপর্যায়ের জুনিয়র কর্মকর্তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। নির্দেশ অমান্য করার প্রবণতা বাড়ায় কাজের গতি কমে আসার পাশাপাশি সার্বিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, একই পদের সব কর্মকর্তার দক্ষতা সমান হয় না। লটারি পদ্ধতির কারণে কোনো কর্মকর্তার বাড়তি অভিজ্ঞতা বা সংকট মোকাবিলার বিশেষ সক্ষমতাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
প্রথাগত বদলি প্রক্রিয়ায় শারীরিক অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা কিংবা সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়টি বিবেচনা করার মানবিক সুযোগ থাকত। কিন্তু স্বয়ংক্রিয় লটারির ফলে এসব আবেদন জানানোর কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এতে চরম মানসিকভাবে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলীরা।
“সন্তান ঢাকার স্কুলে পড়ছে এবং পরিবারে বয়স্ক রোগীর চিকিৎসা চলছে। অথচ লটারির কারণে হঠাৎ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পদায়ন করা হয়েছে। কোনো কথা বলার সুযোগও রাখা হয়নি।”
ভুক্তভোগী উপসহকারী প্রকৌশলী: “বিশেষ শারীরিক অসুস্থতার কারণে নির্দিষ্ট সুবিধাযুক্ত জেলায় থাকা জরুরি ছিল। লটারির মাধ্যমে এমন স্থানে বদলি করা হয়েছে যেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধাই নেই।”
কারিগরি সংস্থায় লটারির মতো অযৌক্তিক পদ্ধতি বাদ দিয়ে অভিজ্ঞতানির্ভর ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার নিরিখে ম্যানুয়াল বদলি প্রথা পুনর্বহাল করা জরুরি। দ্রুত এই নীতিমালা পুনর্বিবেচনা না করা হলে অধিদপ্তরের কাজের গুণগত মান যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
অনলাইন ডেস্ক 





















