
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট কাস্টমস ইমিগ্রেশনের স্ক্যানিং পয়েন্টে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি দেশি-বিদেশি যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ব্যাগেজ তল্লাশির নামে ভোগান্তি সৃষ্টি করছেন।
যাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, কাস্টমস স্ক্যানারে ব্যাগেজ তল্লাশি সম্পন্ন হওয়ার পরও অনেককে সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়। এ সময় তাদের ব্যক্তিগত ও ভ্রমণ সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন করার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, স্ক্যানিং শেষে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই ব্যাগ টেনে ধরে ভিতরের মালামাল ও ওষুধপত্র টেবিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা হয়। তল্লাশি শেষে বয়স্ক, অসুস্থ বা শারীরিকভাবে দুর্বল যাত্রীদের মালামাল পুনরায় গুছিয়ে নিতেও কোনো সহায়তা করা হয় না বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
গত ২ অক্টোবর ভারতে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরা বেনাপোলের ভবেরবেড় গ্রামের বাসিন্দা নুর ইসলাম একই ধরনের হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ইমিগ্রেশন শেষে কাস্টমস স্ক্যানিং পয়েন্ট পার হওয়ার সময় এআরও মিজানুর রহমান তার ব্যাগ টেনে ধরে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রাখেন।
নুর ইসলাম বলেন, “কেন দেশে চিকিৎসা না করিয়ে ভারতে গেলাম কিংবা কেন বিদেশে টাকা খরচ করলাম—এমন অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন তুলে আমাকে জেরা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলেই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাবে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টমসের কয়েকজন কর্মী জানান, ওই কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে। অতীতে অন্য যেসব কর্মস্থলে তিনি ছিলেন, সেখানেও তার কাজের ধরন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে তারা জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ২ অক্টোবর বিকেলে বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসে এআরও মিজানুর রহমানের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত করেন, যাদের একটি বড় অংশই অসুস্থ ও প্রবীণ। ভুক্তভোগী যাত্রীরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং চেকপোস্টে সেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা। এ বিষয়ে তারা কাস্টমস কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
Reporter Name 

























