
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থী কক্ষে ভাঙচুর, দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটি’ (এইচআরডিএস)।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিফাত উল্লাহর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রাজনৈতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন মার্কেট এলাকায় একদল যুবক হকি স্টিক ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মহড়া দেয়। পরবর্তীতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে প্রবেশ করে আরিফুল ইসলামের কক্ষ ভাঙচুর করা হয় এবং রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এসব ঘটনার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
সহিংসতার ভিডিও ধারণ করতে গেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সদস্য জাহিদ ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয়। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া, দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মৃদুল ইসলামকে গলা টিপে ধরে মারধর করা হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
এইচআরডিএস-এর বক্তব্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা:
সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তচিন্তা, গঠনমূলক মতপ্রকাশ ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করা জরুরি। রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে ঘিরে হলে ভাঙচুর কিংবা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আক্রমণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিম এবং পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ভূমিকা না নিয়ে পুলিশ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এইচআরডিএস।
১. সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার: ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আসা হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
২. সাংবাদিকদের হামলায় বিচার: সাংবাদিক জাহিদ ও মৃদুলের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
৩. চিকিৎসা ও সুরক্ষা: আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহন এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা: সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং প্রাঙ্গণে অবস্থানরত সকলের জন্য নিরাপদ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
৫. প্রশাসনের জবাবদিহিতা: সহিংস চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের অবহেলা ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অনলাইন ডেস্ক 

























