
মাত্র তিন মাস আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেছিলেন তারা। কিন্তু ভ্রমণের ছলে নতুন বিবাহিত স্ত্রীকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ভারতের পাচারকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার গোপন চক্রান্ত করছিলেন স্বামী আশিকুর রহমান। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা ও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে উদ্ধার হলেন ভুক্তভোগী তরুণী, ধরা পড়ল স্বামীসহ মানবপাচারকারী চক্রের চার সদস্য।
গত সোমবার রাত সাড় ৮টার দিকে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং বল্লাঘাট এলাকার ‘প্রজাপতি আবাসিক হোটেল’ থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত তরুণীর দায়ের করা মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ দমন আইনের মামলায় আটককৃত চারজনকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলো—ময়মনসিংহের ভালুকা থানার আওলাতলী গ্রামের আশিকুর রহমান (২৬), নিশ্চাম গ্রামের মো. জহিরুল ইসলাম (২৫), পালগাঁও গ্রামের কাওছার (২৩) এবং গোবদিয়া গ্রামের মো. সাগর মিয়া (২৩)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিন মাস আগে বিয়ে হলেও মূলত স্ত্রীকে ভারতে পাচার করে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল আশিকুরের। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী স্ত্রীকে ঘোরানোর অজুহাতে জাফলংয়ে নিয়ে এসে একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। পরবর্তীতে সেখানে এসে যোগ দেন আশিকুরের তিন বন্ধু। হোটেলের কক্ষে আশিক ও তার সহযোগীদের মধ্যে স্ত্রীকে পাচারের গোপন আর্থিক লেনদেন ও প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছিল। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে এবং কথাবার্তা টের পেয়ে বুদ্ধিমত্তার সাথে সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা বা স্থানীয় পুলিশকে ফোন দেন ওই গৃহবধূ। খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তাকে সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত চারজনকে হাতে-নাতে আটক করে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরেই ভারতভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সাথে সংসংলিষ্ট ছিল। আশিকুর তার নিজ স্ত্রীকে পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করার চুক্তি করেছিল এবং জাফলং সীমান্ত পার করে ভারতে পাঠানোর পূর্বমুহূর্তেই পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
অনলাইন ডেস্ক 
























