
ঢাকার আবাসন ব্যবস্থা ও নগরায়ণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও প্রশাসনের নীতি নির্ধারকরা। তাদের মতে, ঢাকাকে একটি বসবাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আইন মানার মানসিকতা ও সব খাতের মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা অপরিহার্য।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট আবাসন, টেকসই নগরায়ণ ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্মার্ট সিটি কনক্লেভে বক্তারা এসব কথা বলেন।
স্যুয়ারেজ বর্জ্যে দূষিত স্টর্ম ওয়াটার, আসছে নতুন বিধিমালা
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকায় প্রায় ৪,৩০০টি ভবনের সিংহভাগেই নিয়ম মেনে সেপটিক ট্যাংক বা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন করা হয়নি। ডেভেলপারদের তৈরি এসব ভবনের স্যুয়ারেজের বর্জ্য সরাসরি বৃষ্টির পানির লাইনে (স্টর্ম ওয়াটার) গিয়ে মিশছে, যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে।
পরিকল্পিত জোনিং ও সঠিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নগরায়ণ নিশ্চিত করতে ইউডিডি-কে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
নিয়মবহির্ভূত ভবনের লাগাম টানতে একটি বিশেষ বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে, যা আগামী এক মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভায় পেশ করার লক্ষ্য রয়েছে।
বাসযোগ্যতার আন্তর্জাতিক সূচকে ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আইনের ব্যত্যয় ও তদারকির সীমাবদ্ধতা
রাজধানীর বর্তমান দুরবস্থার পেছনে আইন না মানার প্রবণতাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। তিনি জানান:
রাজউকের মাত্র ১,২০০ কর্মী ও শতাধিক পরিদর্শকের পক্ষে সমগ্র ঢাকার বিশাল নগরী সার্বক্ষণিক তদারকি করা অসম্ভব।
আবাসন খাতকে টেকসই করতে ডেভেলপার, প্রকৌশলী ও ভবন মালিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে আইন মেনে চলতে হবে।
নগরীকে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করতে রাজউকের পক্ষ থেকে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়:
গ্রিন বিল্ডিং incentive: পরিবেশবান্ধব ভবনের জন্য প্রণোদনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আবাসনে অতিরিক্ত ফ্লোর স্পেস প্রদানের পরিকল্পনা।
সৌরবিদ্যুৎ ও সবুজায়ন: ভবনের নকশায় বাধ্যতামূলক সৌরবিদ্যুৎ রাখা এবং অন্তত এক বিঘা জমিতে ১০ শতাংশ স্থান গাছপালার জন্য নির্ধারণ।
ভূমিকম্প ঝুঁকি: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গবেষণা ও সুরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, উক্ত কনক্লেভে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, আবাসন খাত এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
অনলাইন ডেস্ক 





















