Dhaka ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু ভাঙ্গায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিহত করার আহ্বান দেশে আর কোনো গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা দেখতে চায় না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেমিট্যান্স আহরণ ও সেবা আরও সহজ করতে ওয়ান ব্যাংকের সাথে নগদের কৌশলগত চুক্তি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও থামেনি বিএডিসির বীজ সিন্ডিকেট: বহাল তবিয়তে ‘বঙ্গ অ্যাগ্রিটেক’ মিরপুরে ডিএনসিসির বড় অভিযান: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই হাজার অবৈধ দোকান বন বিভাগে ‘পে-ফিক্সেশন’ বাণিজ্য: ফাইলপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ, জিম্মি সাধারণ কর্মচারীরা পঞ্চগড় বোদা ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য: তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভিডিও ভাইরালের পর ক্ষোভ কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে ২ কোটি টাকার চাল ও ধান আত্মসাৎ: দুদকের মামলা চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীতে অভিযান: ১ লাখ মিটার জাল ও ২৫০ কেজি ইলিশসহ আটক ৩

ডিজিটাল আলামত ও তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা: ডিপিডিসি মাতুয়াইল এনওসিএসের দুর্নীতি তদন্তে নতুন মোড়

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)-এর মাতুয়াইল এনওসিএস কার্যালয়ের ঘুষ বাণিজ্য, মিটার কারসাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তদন্ত শুরু হতেই বেরিয়ে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তের মুখে সার্ভার ডাটাবেস ও ডিজিটাল আলামত নষ্ট করে প্রমাণ গোপনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ডিজিটাল আলামত নষ্ট ও তদন্ত প্রভাবিত করার চক্রান্ত
মাতুয়াইল ডিভিশনের আইসিটি শাখার লাইনম্যান মেট মো. ফিরোজ শেখের সহায়তায় সার্ভারে সংরক্ষিত তথ্য, ডিজিটাল লগ এবং মিটারের রিডিং বদলানোর পাঁয়তারা চলছে। এজন্য ৫ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তের গতিপথ নিজেদের অনুকূলে নিতে গুলশান ও ধানমডির বিভিন্ন স্থানে গোপন বৈঠকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও হয়রানি
তদন্ত কমিটির নথিপত্র অনুযায়ী, তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যালয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। চক্রের অন্য সদস্যরা হলেন—উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল বাশার তালুকদার, মো. মঞ্জুরুল কাদের, লাইনম্যান মেট মো. ওবাইদুর রহমান টিপু এবং ড্রাইভার মো. উজ্জ্বল মিয়া। নতুন সংযোগ, লোড বৃদ্ধি বা বিল সংশোধনের মতো সেবা পেতে গ্রাহকদের বাধ্য করা হতো ঘুষ দিতে। অর্থ না দিলে ফাইল আটকে রেখে চলত অহেতুক হয়রানি।

ভয়াবহ অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকি
নিয়ম ভেঙে বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনে ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে হাই ভোল্টেজ (এইচটি) সংযোগের বদলে লো ভোল্টেজ (এলটি) সংযোগ দেওয়া হয়েছে, যা মারাত্মক বিদ্যুৎ ঝুঁকির পাশাপাশি সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

মিটার পরিবর্তন ও মাসব্যাপী ডুপ্লিকেট মিটার ব্যবহার করে বিদ্যুৎ খরচ গোপন করা, অন্য ডিভিশন থেকে ৩-পিন মিটার এনে স্থাপন এবং সোলার ও পিএফআই (PFI) ছাড়া সংযোগ দেওয়ার অসংখ্য প্রমাণ মিলেছে।

অভিযুক্ত ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
অভিযুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল বাশার তালুকদার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আইসিটি শাখার ফিরোজ শেখকে অনিয়মের কারিগর বললেও, লাইনম্যান মেট ফিরোজ শেখ নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতি অন্ধ আনুগত্য প্রকাশ করে বলেন, “স্যার আমার অভিভাবকের মতো, তাঁর নির্দেশ আমি শুনব।” অন্যদিকে ড্রাইভার উজ্জ্বল মিয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে সার্ভার লগ, সিসিটিভি ফুটেজ ও মিটার ডাটাবেস সুরক্ষিত করার দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের দাপ্তরিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু