
বিএনপির পক্ষ থেকে আসা বিভিন্ন বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জামায়াত অতীতে কখনোই আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো জোট গঠন করেনি। যারা এই ধরনের অভিযোগ তুলছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বাস্তবতার পরিপন্থী।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইতিহাস এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন জামায়াত নেতা।
বরগুনায় বিএনপির সাবেক চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হলে সরকারি টাকা দেওয়া হবে না”—এমন বক্তব্য এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ মূলত আবারও ফ্যাসিবাদের পথকেই প্রশস্ত করে।
এ সময় বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার নবম দফার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ঢেলে সাজানোর যে প্রতিশ্রুতি বিএনপি দিয়েছে, দলের নেতাদের তা সবসময় স্মরণে রাখা উচিত।
রুহুল কবির রিজভীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের জবাবে গোলাম পরওয়ার স্পষ্ট করেন যে, অতীতে জামায়াত বিএনপির সঙ্গে চার দল, ১৮ দল ও ২০ দলীয় জোটে থাকলেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে কখনো জোটে যায়নি।
তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ১৯৯৪-৯৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার জনগণের গণ-আকাঙ্ক্ষা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে, তার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বাম দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে একটি ‘লিয়াজোঁ কমিটি’ গঠিত হয়েছিল। কেবল যৌথ আন্দোলন কর্মসূচি পালনের মাধ্যম হিসেবেই ওই কমিটি কাজ করেছিল, যা কোনো রাজনৈতিক জোট ছিল না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার জানান—
প্রথম রূপরেখা: ১৯৮০ সালে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির অধ্যাপক গোলাম আযম সর্বপ্রথম নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চিন্তাধারা ও রূপরেখা পেশ করেন, যা পরবর্তীতে দেশের সকল মহলে গ্রহণযোগ্যতা পায়।
খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান: সে সময় জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির আব্বাস আলী খান সরাসরি বেগম খালেদা জিয়ার কাছে গিয়ে এই রূপরেখা মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
১৯৯১-এর ভূমিকা: ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের সময় জামায়াত নিঃশর্ত সমর্থন দিয়েছিল। এমনকি তৎকালীন পার্লামেন্টারি পার্টির লিডার মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নেতৃত্বে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলও জমা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা তখন আলোচনায় তোলা হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন বিএনপি সরকারের গণবিরোধী ও অনমনীয় অবস্থানের কারণে এবং জোরপূর্বক মাগুরা উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের ফলে তীব্র গণআন্দোলন তৈরি হয়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একরঙা নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত স্বল্পমেয়াদী সংসদে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস করে সংসদ ভেঙে দিতে বাধ্য হয়। তাই জামায়াতের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে ‘আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার’ অভিযোগ তোলা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।
অনলাইন ডেস্ক 

























