
ঢাকা কর অঞ্চল-৫, সার্কেল-৯৯-এর উচ্চমান সহকারী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি এবং করদাতাদের ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কর কমিশনার ও ডেপুটি কর কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে করদাতাদের জিম্মি করে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকরির মাত্র এক যুগে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন এই কর্মকর্তা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাইফুল ইসলামের নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে দৃশ্যমান প্রায় ১৩ কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। এর বাইরে স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর, সঞ্চয়পত্র এবং নগদ মিলিয়ে আরও প্রায় ৫ কোটি টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলামের নিজ ও বেনামি সম্পদের বাজারমূল্য প্রায় ১৩ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
আਲੀশান বাড়ি: নিজ এলাকায় প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি।
গরুর খামার: নিজ বাড়ির পাশে প্রায় ১১ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই খামারে ৪ জন কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন, যাদের পেছনে মাসিক বেতন বাবদ খরচ হয় প্রায় ১ লাখ টাকা। শুধু এই জমির আনুমানিক মূল্যই ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
বিপুল পরিমাণ জমি: ভারারিয়া এলাকায় প্রায় এক বিঘা (মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা), মাইজবাড়ীতে দুই বিঘা (মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা), বাড়ির আশপাশে ২০ শতাংশ, কবরস্থানসংলগ্ন ১০ শতাংশ এবং পলশিয়া বাজারের প্রধান সড়কের পাশে প্রায় ১৬ শতাংশ জমিসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন তিনি।
শুধু দুর্নীতির মাধ্যমেই নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কবরস্থানের পাশের জমি দখল এবং তিন ভাইকে বঞ্চিত করে বাবার সম্পত্তি লিখে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। এমনকি মৃত ছামান আলীর ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেনের প্রায় ৬ শতাংশ জমিও জোরপূর্বক নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মাইজবাড়ীর ১৪ শতাংশ জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং গোপালপুর থানা আমলি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় হাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে জবরদখলের অভিযোগ এনেছেন। আদালত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও, কর বিভাগের উচ্চমান সহকারী পরিচয়ে সাইফুল ইসলাম ওই মামলাগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চাকরিজীবনের সীমিত বেতনের সঙ্গে ১৩ কোটি টাকার বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি এবং ব্যাংক-সঞ্চয়পত্রে থাকা ৫ কোটির হিসাব কোনোভাবেই মেলে না। স্থানীয় ও পর্যবেক্ষক মহলের মতে, তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের এনআইডি ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এফডিআর ও পোস্ট অফিসের সঞ্চয়পত্রের সঠিক হিসাব নিলেই আরও বড় দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসবে।
এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের উৎস খুঁজে বের করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং কর গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংক্ষুব্ধ ও সচেতন নাগরিক সমাজ। অবিলম্বে অভিযুক্ত এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি উঠেছে।
অনলাইন ডেস্ক 
























