Dhaka ১২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
রাজউকের চোখ ফাঁকি দিয়ে গেন্ডারিয়ায় ১৪-১৬ তলার অবৈধ ভবন: দুই দফায় জরিমানা ও অভিযান সত্ত্বেও থামছে না কাজ! ন্যূনতম বেতনের দাবিতে মিরপুরে ফের পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট ‘সিস্টেম ঠিক না থাকলে দেশ এগোতে পারে না’—সরকারকে সতর্ক করলেন অলি আহমেদ কুমিল্লা বোর্ডের এইচএসসি ফলাফল: পাসের হার ৪৮.৪ শতাংশ, ছাত্রীদের সাফল্য বেশি ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা: ২৫ নাবিক উদ্ধার ফ্রান্সে হ্যালোইন উৎসবের প্রাক্কালে নতুন সহিংসতার আশঙ্কা, ৭০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ: সার্বিক পাশের হার ৫২.১২% ফাঁসির মঞ্চ থেকে বেঁচে ফিরেছেন ক্রিস্টা পাইক, ৫০ বছর বয়সে এসে ভাঙলেন নীরবতা প্রিমিয়ার লিগের রোমাঞ্চকর উইকেন্ড: ক্যারিকের টিকে থাকার লড়াই, আর্সেনালের অগ্নিপরীক্ষা ও সিটির শীর্ষস্থান রক্ষার মিশন ইয়েমেনের হুথি ড্রোন হামলায় উত্তপ্ত সৌদি আরব: তেল স্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা

কর কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৩ কোটির অবৈধ সম্পদের পাহাড়! ঘুষ বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : ০২:১৯:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৮ বার

ঢাকা কর অঞ্চল-৫, সার্কেল-৯৯-এর উচ্চমান সহকারী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি এবং করদাতাদের ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কর কমিশনার ও ডেপুটি কর কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে করদাতাদের জিম্মি করে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকরির মাত্র এক যুগে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন এই কর্মকর্তা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাইফুল ইসলামের নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে দৃশ্যমান প্রায় ১৩ কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। এর বাইরে স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর, সঞ্চয়পত্র এবং নগদ মিলিয়ে আরও প্রায় ৫ কোটি টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলামের নিজ ও বেনামি সম্পদের বাজারমূল্য প্রায় ১৩ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:

আਲੀশান বাড়ি: নিজ এলাকায় প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি।

গরুর খামার: নিজ বাড়ির পাশে প্রায় ১১ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই খামারে ৪ জন কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন, যাদের পেছনে মাসিক বেতন বাবদ খরচ হয় প্রায় ১ লাখ টাকা। শুধু এই জমির আনুমানিক মূল্যই ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

বিপুল পরিমাণ জমি: ভারারিয়া এলাকায় প্রায় এক বিঘা (মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা), মাইজবাড়ীতে দুই বিঘা (মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা), বাড়ির আশপাশে ২০ শতাংশ, কবরস্থানসংলগ্ন ১০ শতাংশ এবং পলশিয়া বাজারের প্রধান সড়কের পাশে প্রায় ১৬ শতাংশ জমিসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন তিনি।

শুধু দুর্নীতির মাধ্যমেই নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কবরস্থানের পাশের জমি দখল এবং তিন ভাইকে বঞ্চিত করে বাবার সম্পত্তি লিখে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। এমনকি মৃত ছামান আলীর ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেনের প্রায় ৬ শতাংশ জমিও জোরপূর্বক নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মাইজবাড়ীর ১৪ শতাংশ জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং গোপালপুর থানা আমলি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় হাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে জবরদখলের অভিযোগ এনেছেন। আদালত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও, কর বিভাগের উচ্চমান সহকারী পরিচয়ে সাইফুল ইসলাম ওই মামলাগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চাকরিজীবনের সীমিত বেতনের সঙ্গে ১৩ কোটি টাকার বেশি মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি এবং ব্যাংক-সঞ্চয়পত্রে থাকা ৫ কোটির হিসাব কোনোভাবেই মেলে না। স্থানীয় ও পর্যবেক্ষক মহলের মতে, তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের এনআইডি ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এফডিআর ও পোস্ট অফিসের সঞ্চয়পত্রের সঠিক হিসাব নিলেই আরও বড় দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসবে।

এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের উৎস খুঁজে বের করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং কর গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংক্ষুব্ধ ও সচেতন নাগরিক সমাজ। অবিলম্বে অভিযুক্ত এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি উঠেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

রাজউকের চোখ ফাঁকি দিয়ে গেন্ডারিয়ায় ১৪-১৬ তলার অবৈধ ভবন: দুই দফায় জরিমানা ও অভিযান সত্ত্বেও থামছে না কাজ!