
ওমানের মুসান্দাম উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালির নিকটে হামলার শিকার হয়ে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পানামার পতাকাবাহী জাহাজটি উপকূল থেকে ১ দশমিক ৬ নটিক্যাল মাইল দূরে এই হামলার মুখোমুখি হয়। ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার জানিয়েছে, দেশটির নৌবাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জাহাজটির ২৫ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করে এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করে।
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ও ইরানের কঠোর অবস্থান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নজরদারি ও বিধিনিষেধ জোরদার করেছে ইরান। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচলে বিভিন্ন কড়াকড়ি আরোপ করে আসছে তেহরান।
আইআরজিসির (ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী) সাম্প্রতিক দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী জাহাজকে আটক করা হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, জাহাজগুলো তাদের নিজস্ব শনাক্তকরণ ও অবস্থান নির্ণয়ব্যবস্থা (জিপিএস/ট্র্যাকিং) বন্ধ রেখে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় নির্ধারিত রুট এড়িয়ে অবৈধভাবে প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। বারবার বেতারবার্তার মাধ্যমে সতর্ক করা সত্ত্বেও জাহাজগুলো তা উপেক্ষা করে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত জলপথেই কেবল চলাচল করা উচিত, কারণ ওমান উপকূলের কাছের দক্ষিণের একটি জলপথকে তারা অনুমোদনহীন বলে বিবেচনা করছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে যে ইরানের লাভান দ্বীপের দক্ষিণে ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আরও একটি জাহাজে আগুন ধরে গেছে। তবে ওই জাহাজের নাবিকেরা নিরাপদে রয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণ ও অন্যান্য হামলায় বেশ কয়েকটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি অবরোধ এবং এই উত্তেজনার ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে তেল রপ্তানি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো।
অনলাইন ডেস্ক 























