
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানা ভবনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে ঘটা বাকবিতণ্ডার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
ঘটনার বিষয়ে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে থানায় কারা এসেছিলেন, পুলিশ সেই তথ্য সংগ্রহ করছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আরাফাতুল ইসলাম জানান, সেদিনকার ঘটনা উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এটিকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ হিসেবে না দেখে, যেকোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনার সাধারণ রেকর্ড হিসেবেই দেখছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার রাতে সরাইল থানায় এই বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় মণ্ডপ পরিদর্শনে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ওসির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলতেই মূলত রুমিন ফারহানা থানায় যান। রাত আটটা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ওসির কক্ষে অবস্থানকালে তাঁর সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন।
ঘুষের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া পাল্টা দাবি করেন যে, ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এই বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি স্যার। যাই হোক সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।”
অন্যদিকে, রুমিন ফারহানার সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, “সংসদ সদস্য শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। একটি দলীল বানিয়ে কিছু লোককে আজেবাজে কথা বলতে শিখিয়ে আনা হয়েছিল। ইটভাটা থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও ভিত্তিহীন, কারণ হাওরের সব ইটভাটা এখন পানির নিচে। আর পূজায় পুরো এলাকায় কড়া নিরাপত্তা দেওয়া হলেও ব্যক্তিগতভাবে ওনার সঙ্গে আলাদা পুলিশ টিম রাখা ওই মুহূর্তে সম্ভব ছিল না।”
অনলাইন ডেস্ক 

























