Dhaka ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু ভাঙ্গায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিহত করার আহ্বান দেশে আর কোনো গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা দেখতে চায় না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেমিট্যান্স আহরণ ও সেবা আরও সহজ করতে ওয়ান ব্যাংকের সাথে নগদের কৌশলগত চুক্তি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও থামেনি বিএডিসির বীজ সিন্ডিকেট: বহাল তবিয়তে ‘বঙ্গ অ্যাগ্রিটেক’ মিরপুরে ডিএনসিসির বড় অভিযান: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই হাজার অবৈধ দোকান বন বিভাগে ‘পে-ফিক্সেশন’ বাণিজ্য: ফাইলপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ, জিম্মি সাধারণ কর্মচারীরা পঞ্চগড় বোদা ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য: তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভিডিও ভাইরালের পর ক্ষোভ কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে ২ কোটি টাকার চাল ও ধান আত্মসাৎ: দুদকের মামলা চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীতে অভিযান: ১ লাখ মিটার জাল ও ২৫০ কেজি ইলিশসহ আটক ৩

মাউশির কুমিল্লা অঞ্চলে পরিদর্শনের নামে ‘ঘুস বাণিজ্য’ ও হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষক সমাজে তীব্র অসন্তোষ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : ০৪:৩০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪৯ বার

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কুমিল্লা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের নামে অনারিয়ামের কথা বলে ঘুস আদায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। তার এই কর্মকাণ্ডে চার জেলার স্কুল ও কলেজ প্রধানদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন ওই কার্যালয়েরই বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

জানা গেছে, মাউশির কুমিল্লা অঞ্চলের অধীনে রয়েছে কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লক্ষ্মীপুর জেলা। এসব অঞ্চলের মোট ২৯৩টি স্কুল ও কলেজ ও এর প্রধানরা বর্তমানে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদার সরাসরি মাঠপর্যায়ে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নানা ত্রুটি খুঁজে বের করার ভয় দেখান। পরে অফিসের বাইরে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং অফিসের ভেতরে গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমের মাধ্যমে ‘অনারিয়ামের’ নামে এই ঘুস আদায় করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারের নেতৃত্বে উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম ও সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে যান। সেখানে প্রথমে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অকারণে বকাবকি ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। পরে সহকারী পরিদর্শক জসিম উদ্দিনকে দিয়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা ঘুস দাবি করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানের নামের আদ্যক্ষর ভেদে ২০ হাজার থেকে শুরু করে বিভিন্ন অংকের টাকা ঘুস দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। এছাড়া বরুড়া উপজেলায় পরিদর্শনে যাওয়ার আগেও ফোনে ১০ হাজার টাকা করে অনারিয়াম প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

লাকসামের গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের দাতা সদস্য আবুল কালাম মজুমদার অভিযোগ করেন, পরিচালকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল বিকেল সোয়া ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তাদের প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করেন। এ সময় কোনো সঠিক কাগজপত্র যাচাই না করে শিক্ষকদের সামনেই নানা কটূক্তি করা হয় এবং শিক্ষকদের পরীক্ষা নেওয়ার মতো অদ্ভুত ঘটনাও ঘটানো হয়। পরে সহকারী পরিদর্শক জসিম উদ্দিন অধ্যক্ষের কাছে ৩২ হাজার টাকা ঘুস দাবি করেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি মুঠোফোনে পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি টাকা চাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

অন্যদিকে, এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কাজের জন্য গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম তার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুস বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মাউশির কুমিল্লা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সঠিক নয়। আমার নাম ব্যবহার করে যদি অফিসের কেউ এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তবে প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু