
সীমান্তের ওপার থেকে আসা একটি আকস্মিক অতিথির হিংস্র আক্রমণে থমথমে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আমঝোল গ্রাম। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে ঘটা এ ঘটনায় বাঘের কবলে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন স্থানীয় তিন জন। ঘটনার পর থেকে পুরো সীমান্তজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ভারতের সীমান্তসংলগ্ন জঙ্গল এলাকা থেকে বাঘটি আকস্মিকভাবে বাংলাদেশ সীমানায় প্রবেশ করে। এ সময় মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন স্থানীয়রা। সন্ধ্যায় শরিফা বেগম নামের এক গৃহবধূ ধানখেতে নিজের ছাগল খুঁজতে গেলে বাঘটি তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাঁর আর্তচিৎকারে আফসার উদ্দিন ও নজরুল ইসলাম এগিয়ে এলে বাঘের ক্ষিপ্ত আক্রমণে তাঁরাও গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয়দের দাবি, বাঘটিকে কাবু করতে বিজিবি সদস্যরা গুলি ছুড়লেও শেষ পর্যন্ত সেটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
আহত তিনজনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আল মামুন জানান, আহতদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রাতেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোনাবেরুল হক মোনা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হঠাৎ বাঘ চলে আসার খবরে সীমান্তবর্তী জনপদে মারাত্মক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে, লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম গণমাধ্যমকে জানান, ভারতের অভ্যন্তর থেকে আমঝোল সীমান্ত দিয়ে একটি বাঘ বাংলাদেশে প্রবেশ করে তিনজনকে আহত করেছে। বন্যপ্রাণীটির বিষয়ে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বন বিভাগকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।
সীমান্তের এই আকস্মিক বন্যপ্রাণীর হানায় এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাঘটি পুরোপুরি কাবু না হওয়া পর্যন্ত মাঠে না যাওয়ার জন্য এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























