
পিরোজপুরে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার অন্যতম সাক্ষী ও গেজেটেড বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) মরদেহ দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা জটিলতা ও নানা নাটকীয়তার পর পুলিশি প্রহরায় দাফন করা হয়েছে। শনিবার (শুরুতে) দিবাগত রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মান (গার্ড অব অনার) প্রদান এবং স্থানীয়ভাবে দাফন করা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বাধার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং শেষ পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দাফন কাজ শেষ করে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর মানিক পশারী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার জামাই ফারুক হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল ১০টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
দুপুর ১২টার দিকে তার মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ও মিলনায়তনে আনা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, একজন গেজেটেড বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা (গার্ড অব অনার) প্রদান করা হবে। তবে মরদেহ সেখানে পৌঁছানোর পরই বাধার মুখে পড়েন স্বজনরা।
মানিক পশারীর মেয়ে জামাই ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, “উপজেলা চত্বরে গার্ড অব অনারের জন্য মরদেহ আনা হলে জামায়াত নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিয়ে পুলিশ লাইনসের ভেতরে গোপনে গার্ড অব অনার সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।”
নিহতের বোন মোছাম্মৎ রিনা আক্তার বলেন, “ভাইয়ের মৃত্যুর পর দাফন নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয়েছিল আমাদের।”
ঘটনার সময় পিরোজপুর জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে মানিক পশারী একজন ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ এবং তাকে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার ও পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে দেওয়া হবে না। শহরের বিভিন্ন স্থানে দলটির নেতাকর্মীদের অবস্থান করতেও দেখা যায়।
তবে দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক ভিন্ন সুর প্রকাশ করে জানান, মানিক পশারীর লাশ দাফনে জামায়াত বা এর অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতাকর্মী বাধা সৃষ্টি করেনি। তারা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী তার ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট করেন যে, মানিক পশারীর জানাজা বা দাফন নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি বা বাধা ছিল না। তাদের মূল আপত্তি ছিল একজন তথাকথিত ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে’ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া নিয়ে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত পুলিশের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তীতে এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য তার কবরের পাশে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























