
পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে রাঙামাটির সাজেকে দুটি স্থানীয় সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ আজ সোমবার টানা পঞ্চম দিনের মতো চলছে। চলমান এই সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি বাঘাইছড়ি উপজেলায় একটি মতবিনিময় সভা করলেও, তাতে অংশ নেয়নি আন্দোলনকারী সংগঠন দুটির কোনো প্রতিনিধি।
সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কর্মীদের সাজেক এলাকা থেকে প্রত্যাহারসহ মোট পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ এবং ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’ এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। সংগঠনগুলোর লাগাতার ডাকে এটি তৃতীয় দফার কর্মসূচি।
সোমবার সকালে বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান। সভায় এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তদন্ত কমিটির সদস্য ভবতোষ দেওয়ান, শান্তিবিজয় চাকমা ও কল্যাণত্রি চাকমা, বাঘাইছড়ি থানার ওসি নাসির উদ্দিন মজুমদার, সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন, সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
বৈঠকে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সবার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হলেও, আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর অনুপস্থিতি আলোচনার টেবিলে কিছুটা শূন্যতা তৈরি করে। এ বিষয়ে কমিটির সদস্য শান্তিবিজয় চাকমা জানান, স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারিরা সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানোর পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি সরজমিন দেখতে উজোবাজার এলাকায় গেছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। তাদের সঙ্গে রয়েছেন দুই জেলার জেলা প্রশাসক (নাজমা আশরাফী ও মো. আনোয়ার শাহাদাৎ) এবং পুলিশ সুপারবৃন্দ (মুহম্মদ আব্দুর রকিব ও মুরতোজা আলী খান)। এই সফরকালে সড়ক অবরোধে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 
























