
অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার রোমাঞ্চকর ও ঝুঁকিপূর্ণ ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ত্রিমুখী কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় তারা রাজধানী ত্রিপোলি থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত উদ্যোগ এবং লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সার্বিক সহযোগিতায় এই আটকে পড়া বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা এই অনিয়মিত অভিবাসীদের অধিকাংশই দালালের খপ্পরে পড়ে সমুদ্রপথে অবৈধ উপায়ে ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে ইউরোপ পৌঁছানোর বদলে লিবিয়ায় পৌঁছানোর পরই তাদের অনেকেই মানবপাচারকারীদের নির্মম অপহরণ, নির্যাতন ও জিম্মি দশার শিকার হন। দীর্ঘদিন বন্দিদশা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে তারা নিজ ভূমে ফেরার স্বস্তি পেলেন।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রত্যাবাসিতদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও আইওএমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় তাদের দুর্বিষহ ও মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে করে সাধারণ মানুষ অবৈধ পথে বিদেশযাত্রার ভয়াবহ ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন।
আইওএমের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যেক ফিরে আসা নাগরিককে যাতায়াত খরচ, খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যাদের প্রয়োজন রয়েছে তাদের সাময়িক আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে (শতাধিক বন্দিশালা) এখনও যেসব বাংলাদেশি আটক রয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে নিরাপদে এবং সম্মানজনক উপায়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ও আইওএম যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনলাইন ডেস্ক 





















