
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটির রাজনীতিতে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন শেষে প্রকাশিত বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী দলগুলোর জোটের আসনসংখ্যা সমান রয়েছে। এই অচলাবস্থার মধ্যেই নেতানিয়াহুকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে রাজনীতি থেকে চিরতরে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গ্যাডি আইজেনকোট।
ইসরায়েলের ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্ট ‘নেসেটে’ সরকার গঠন করতে হলে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর বুথফেরত সমীক্ষায় দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট এবং গ্যাডি আইজেনকোটের বিরোধী জোট—উভয় পক্ষই ৫১টি করে আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, আরব দলগুলোর জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ ও ‘রা’আম’ (ইউনাইটেড আরব লিস্ট) পেতে পারে ১৮টি আসন।
নির্বাচনে লিকুদ পার্টি এককভাবে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও দুই প্রধান জোটের সমীকরণ সমান থাকায় সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হলে বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার হবে।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৯৯৯ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বিশেষ করে, ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের (যাঁরা মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশ) মধ্যে ভোটদানের হার পৌঁছায় প্রায় ৮০ শতাংশে—যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আল-জাজিরার সাংবাদিক নুর ওদেহ জানিয়েছেন, অতীতে যাঁরা ভোট দিয়ে কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলে মনে করতেন, এবার তাঁরাও পরিবর্তনের আশায় ব্যালট পেপার হাতে তুলে নিয়েছেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদুকরী সংখ্যা ৬১ অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এখন আরব দলগুলোর সমর্থনই সরকার গঠনের মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউনাইটেড আরব লিস্টের নেতা মানসুর আব্বাস আশা প্রকাশ করেছেন যে, চূড়ান্ত ফলাফলের পর নেতানিয়াহুবিরোধী জোট প্রয়োজনীয় ৬১ আসন পেয়ে যেতে পারে। তাঁর দাবি, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই প্রধান জোটই তাঁর দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরই নির্ধারিত হবে ইসরায়েলের পরবর্তী ক্ষমতার মসনদে কে বসছেন এবং দেশটির রাজনীতিতে আরব দলগুলো কতটা প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।
অনলাইন ডেস্ক 

























