
১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোতে পাকিস্তানের করাচির মাসরুর বিমানঘাঁটি থেকে একটি টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান ছিনিয়ে নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে আকাশ জয় করার এক দুঃসাহসিক অভিযানে শহীদ হন বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান। বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামে তাঁর এই অনন্য আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অমর অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
১৯৬৩ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কমিশন লাভ করার পর ১৯৬৭ সালে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হন মতিউর রহমান। ১৯৭১ সালে দেশমাতৃকার টানে তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কর্মরত অবস্থাতেই মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং ভৈরবে বাঙালি যুবকদের জন্য একটি গোপন প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলেন।
১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট তিনি পাকিস্তানের মাসরুর বিমানঘাঁটি থেকে একটি প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে উড্ডয়ন করেন। বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের আয়ত্তে নেওয়ার চেষ্টা করলে পাকিস্তানি প্রশিক্ষণার্থী পাইলট রশিদ মিনহাজের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সিন্ধু প্রদেশের থাট্টা এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হলে এই বীর সেনানি শাহাদাতবরণ করেন। সে সময় তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ২৯ বছর। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি মিলি খানের স্বামী এবং দুই কন্যা—মাহিন ও তুহিনের পিতা ছিলেন।
প্রাথমিক অবস্থায় তাঁকে পাকিস্তানের করাচিতে দাফন করা হলেও, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০০৬ সালের ২৪ জুন তাঁর দেহাবশেষ সসম্মানে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এর পরদিন অর্থাৎ ২৫ জুন পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় রাজধানী ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে পুনরায় সমাহিত করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা, বীরত্ব ও দেশপ্রেমের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তাঁর এই ঐতিহাসিক অবদান ও আত্মত্যাগ চিরদিন বাঙালি জাতির হৃদয়ে অনুপ্রেরণা হয়ে জ্বলজ্বল করবে।
অনলাইন ডেস্ক 





















