
মুকসুদপুর কলেজের এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেখে আমি অত্যন্ত হতাশ ও মর্মাহত। একটি ঐতিহ্যবাহী ও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফল শুধু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য নয়, পুরো মুকসুদপুরবাসীর জন্যই উদ্বেগের বিষয়।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির মোট ১ হাজার ৪০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ২৮১ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ১১৯ জন। পাসের হার মাত্র ২০ দশমিক ০৪ শতাংশ।
এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার কারণ কী? এর দায়ভারই বা কে নেবে—এ প্রশ্ন এখন স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে।
ফলাফল ভালো হলে নিশ্চয়ই কলেজ কর্তৃপক্ষ, অধ্যক্ষ ও শিক্ষকবৃন্দ নিজেদের সাফল্য হিসেবে কৃতিত্ব দাবি করতেন। তাহলে ফলাফল যখন এতটা বিপর্যয়কর, তখন এর দায়ও কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এড়িয়ে যেতে পারেন?
এ বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি—
১. শিক্ষার্থীদের নিয়মিত প্রাক-মূল্যায়ন ও নির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল কি না?
২. এসব পরীক্ষার উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছিল কি না?
৩. দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের জন্য বিশেষ পাঠদান, অতিরিক্ত ক্লাস কিংবা প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না?
৪. শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান, উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি যথাযথভাবে তদারকি করা হয়েছে কি না?
সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা অধ্যক্ষ ও শিক্ষকমণ্ডলীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
আমরা মনে করি, বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য ও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিনীত আবেদন—সরকারি মুকসুদপুর কলেজের এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন এবং তদন্তে কারও দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আর কোনো অবহেলা নয়। আমরা চাই, সরকারি মুকসুদপুর কলেজ তার হারানো শিক্ষার পরিবেশ, সুনাম, ঐতিহ্য ও গৌরব আবার ফিরে পাক।
প্রশ্ন একটাই—১ হাজার ১১৯ জন শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার দায়ভার কে নেবে?
মোঃ বাদল শেখ মুকসুদপুর উপজেলা প্রতিনিধি 

























