
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার এক দফা দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তীব্র অসন্তোষ ও শ্রমিক বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা এলেও শ্রমিকদের ক্ষোভ পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক এবং পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসেন। তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ফলে মহাসড়কটিতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা চরম দুর্ভোগে ফেলে সাধারণ commuters বা যাত্রীদের।
আন্দোলন চলাকালে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। গাজীপুরের নাওজোর এলাকায় উত্তেজিত জনতা পুলিশের তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ‘সময় টেলিভিশন’-এর রিপোর্টার ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে এক সাংবাদিক ও বিজিবি সদস্যের আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করতে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠে রয়েছেন ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে মাঠে নেমেছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার দুপুরে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকারের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কোনাবাড়ী এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। তারা দীর্ঘক্ষণ সেখানে থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালান।
সব মিলিয়ে, শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলন, সড়ক অবরোধ, সহিংসতা এবং পাল্টাপাল্টি পরিস্থিতিতে গাজীপুরের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে থমথমে ও উত্তেজনাকর পরিবেশ বিরাজ করছে।
অনলাইন ডেস্ক 























