
রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। তাঁর নাম ইমরান বাবু। অভিযোগ রয়েছে, এই কর্মকর্তার দাপটেই রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়েছে রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরটি। দপ্তরের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণ থেকে শুরু করে সবকিছুতেই তাঁর একক সিদ্ধান্তই শেষ কথা—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
একাধিক গুরুতর অভিযোগে জানা যায়, ঠিকাদারদের সঙ্গে গোপন আঁতাত, সরকারি উন্নয়নকাজ নিয়ন্ত্রণ, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং ফাইল ছাড়ানোর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন বা পার্সেন্টেজ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন ইমরান বাবু। দীর্ঘদিন একই দপ্তরে বহাল তবিয়তে থাকার সুযোগে তিনি সেখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
পার্সেন্টেজ ও বিল বাণিজ্য: ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে পার্সেন্টেজ নেওয়ার একটি অদৃশ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে কাজের মান যাচাই না করেই বা বাস্তবে কাজ শেষ না করেই কাগজে-কলমে তা সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলনের ঘটনাও ঘটছে।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও সিন্ডিকেট: বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী (আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ) কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশেষ সখ্য গড়ে তুলে তাদের একচেটিয়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নেপথ্যে তাঁর হাত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ইশারার বাইরে দপ্তরের কোনো ফাইলই এগোয় না বললেই চলে।
অবৈধ সম্পদ অর্জন: সরকারি চাকরির সীমিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এই কর্মকর্তা। রাজশাহী শহরের অভিজাত এলাকায় তাঁর কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নামে-বেনামে দেশজুড়ে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলার গুঞ্জন রয়েছে।
ইমরান বাবুর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অনিয়ম, ঠিকাদার সিন্ডিকেট, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মাদক সেবনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়, ঢাকায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীরা এসব বিষয়ের নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছেন।
তদন্তের স্বার্থে ইমরান বাবুর দায়িত্বে থাকা আমলের ঠিকাদারি প্রকল্পের কার্যাদেশ, পরিমাপ বই (এমবি), বিল-ভাউচার, বাস্তব অগ্রগতি এবং তাঁর আয়কর নথি ও সম্পদ বিবরণী খতিয়ে দেখার জোরালো দাবি উঠেছে।
এর আগেও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভিন্ন কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান ও মামলার নজির রয়েছে। গত বছরের (২০২৫) অক্টোবরে ২০২১-২২ অর্থবছরের কেনাকাটায় প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির অডিট আপত্তি নিয়ে নথিপত্র সংগ্রহ করেছিল দুদক। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অতীতের সেসব ঘটনার সঙ্গে ইমরান বাবুর বর্তমান অভিযোগগুলোর সরাসরি কোনো সংযোগ নেই, এগুলো তাঁর নিজস্ব অপকর্মের ফল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমরান বাবুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সরকারি তহবিলের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং রেলওয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























