
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য এবং অনিয়মের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মূল তীরে রয়েছেন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. নাজমুল হাসান। স্থানীয় সেবাগ্রহীতা ও দলিল লেখকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিবন্ধন করতে গিয়ে তারা অতিরিক্ত ফি ও নানামুখী প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়
অভিযোগ উঠেছে, দলিলের মূল্য ও ধরনের ওপর ভিত্তি করে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও নানা অহেতুক আপত্তি তুলে দলিল আটকে রাখা হয়। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিলে তবেই মেলে সেবা।
১৪ বছরের চাকরিজীবনে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালেও নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে বলে জানা গেছে। কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দলিলের উদাহরণ টেনে সংশ্লিষ্টদের দাবি, এর আগেও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে অনিয়ম করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের কোনো দাপ্তরিক তদন্ত প্রতিবেদন বা নিষ্পত্তির তথ্য মেলেনি।
নাজমুল হাসান ও তার পরিবারের নামে-বেনামে প্রচুর সম্পদ গড়ে তোলার তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বৈধ আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নিজ, স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নামে জমি, ফ্ল্যাট, মাছের ঘের এবং নির্মাণাধীন ভবনে বড় অংকের বিনিয়োগের কথা উঠে এসেছে স্থানীয় পর্যায়ে।
উঠে আসা অভিযোগ ও অর্জিত সম্পদের বৈধ উৎস যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও নিবিড় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাব-রেজিস্ট্রার মো. নাজমুল হাসানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থা ফেরাতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করা জরুরি।
অনলাইন ডেস্ক 





















