
দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে চলা নির্মাণকাজ, হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যয় এবং অন্তহীন জনদুর্ভোগের পর অবশেষে গাজীপুর বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে বিশেষ বাস চালুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত না হওয়ায়, এর পরিবর্তে বিদ্যমান অবকাঠামোকে তিন থেকে ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে।
গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২০১২ সালে তৎকালীন সরকার বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিশেষ বিআরটি চালুর উদ্যোগ নেয়। শুরু থেকেই অপরিকল্পিত নকশা, সমন্বয়হীনতা ও নানা ত্রুটির কারণে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে। প্রাথমিক ব্যয় ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা ধরা হলেও তিন দফায় তা বেড়ে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকায় দাঁড়ায়, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। তবে কাজের ৯৭ শতাংশ শেষ হওয়ার দাবি করা হলেও কাঙ্ক্ষিত বিশেষ বাস ও স্টেশনগুলোর কার্যকারিতা না থাকায় তা সাধারণ মানুষের উপকারে আসেনি। উল্টো সড়কে যানজট ও জনদুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়।
প্রকল্প বাতিল ও মহাসড়ক রূপান্তর: বিআরটি করিডরের স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণ করে সড়কটিকে ৩ থেকে ৬ লেনে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি দুটি দুই লেনের উড়ালসড়ক চার লেনে রূপান্তর করা হবে।
কোম্পানি বিলুপ্তি: বিআরটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি বন্ধ করে এর কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অধীনে ন্যস্ত করা হবে।
আইনি প্রক্রিয়া: সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে আলোচনা করে আইনি জটিলতা নিরসন করে দ্রুত প্রকল্প বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে।
দ্রুত বাস্তবায়ন: এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হকের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রুটিপূর্ণ এই প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্তটি সঠিক। তবে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে যারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, তাদের জন্য বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে রেলের তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন চালুর শেষ পর্যায়ে থাকায় গাজীপুরবাসীর জন্য কমলাপুর পর্যন্ত কমিউটার ট্রেন সেবা চালুর জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে, প্রকল্প বাতিলের আর্থিক ক্ষতি ও অপচয় নিয়ে বিভিন্ন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জনদুর্ভোগের স্থায়ী অবসানে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনলাইন ডেস্ক 

























