
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রুখতে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে জেলা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন থানায় অভিযান চালিয়ে আরও ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ২৩ দিনে নোয়াখালীর বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে মোট ১ হাজার ৭৯১ জনকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হলো।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের দিকনির্দেশনায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে ১ হাজার ৪৩৪ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে কিশোররা ভুল বুঝতে পারবে এবং ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলা থাকায় বাকিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধে এই অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কাজও চলছে।
সমাজ ও শিক্ষাবিদরা পুলিশের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে সাধুবাদ জানিয়েছেন। নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কাজী মো. রফিক উল্যাহ বলেন, বর্তমান সামাজিক অস্থিরতা দূর করতে এই পদক্ষেপ জনমনে স্বস্তি ফেরাবে এবং অপরাধ প্রবণতা কমাবে।
তবে কেবল পুলিশি অভিযানেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ। কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব, পারিবারিক বন্ধনের অভাব এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ার কারণেই মূলত কিশোর গ্যাংয়ের মতো সংকটগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























