Dhaka ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু ভাঙ্গায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিহত করার আহ্বান দেশে আর কোনো গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা দেখতে চায় না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেমিট্যান্স আহরণ ও সেবা আরও সহজ করতে ওয়ান ব্যাংকের সাথে নগদের কৌশলগত চুক্তি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও থামেনি বিএডিসির বীজ সিন্ডিকেট: বহাল তবিয়তে ‘বঙ্গ অ্যাগ্রিটেক’ মিরপুরে ডিএনসিসির বড় অভিযান: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই হাজার অবৈধ দোকান বন বিভাগে ‘পে-ফিক্সেশন’ বাণিজ্য: ফাইলপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ, জিম্মি সাধারণ কর্মচারীরা পঞ্চগড় বোদা ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য: তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভিডিও ভাইরালের পর ক্ষোভ কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে ২ কোটি টাকার চাল ও ধান আত্মসাৎ: দুদকের মামলা চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীতে অভিযান: ১ লাখ মিটার জাল ও ২৫০ কেজি ইলিশসহ আটক ৩

জাল রায়, নথি গায়েব ও ক্ষমতার অপব্যবহার: সাময়িক বরখাস্ত সেই বিচারক আরিফুল ইসলাম

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : ০৬:৫২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৬ বার

জাল রায় তৈরি, সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ে তা দাখিল, বিচারিক নথি গায়েব এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাল্পনিক মামলা দিয়ে হয়রানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে অভিযুক্ত লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আরিফুল ইসলামকে শেষ পর্যন্ত সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে আইন মন্ত্রণালয় তাকে বরখাস্ত করে এবং একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে তিনি আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত দীর্ঘ অনুসন্ধানে ৫৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বিচারক আরিফুলের বিরুদ্ধে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা মেলে। এর মধ্যে রয়েছে—

১. জাল সমন তৈরি: টাঙ্গাইলের একটি মামলার মিথ্যা সমন তৈরি করে কর্মস্থলের বাইরে থাকার অনুমতি নেওয়া, যেখানে ওই দিন সাক্ষ্যগ্রহণের কোনো দিনই ছিল না।

২. নথি গায়েব: রায় লেখার কথা বলে চারটি দেওয়ানি মামলার মূল নথি নিজ জিম্মায় নিয়ে দীর্ঘদিনেও ফেরত না দেওয়া।

৩. ভুয়া রায় সৃজন: ভেদরগঞ্জ আদালতের একটি মামলায় রায়ের অস্তিত্ব না থাকলেও পরবর্তীতে জাল রায় তৈরি করে তা সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা (যা দণ্ডবিধির ৪৬৬ ও ৪৭১ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ)।

৪ ও ৫. কথোপকথন রেকর্ড ও অপপ্রচার: জেলা জজের খাসকামরায় গোপন কথোপকথন রেকর্ড করে তা গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করানোর প্রাথমিক সত্যতা।

শুধু বিচারিক অনিয়মই নয়, ব্যক্তিগত প্রভাবে সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়নের ভয়াবহ অভিযোগ রয়েছে এই বিচারকের বিরুদ্ধে। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় পৈতৃক ‘হাজি হোসেন পাইকারি মার্কেট’ দখলের উদ্দেশ্যে নিজ চাচা শ্বশুর তৌহিদুল ইসলাম মজিবরসহ দেড় শতাধিক কাপড় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যত্রতত্র মামলা করানোর অভিযোগ ওঠে। স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে সম্পত্তির বিরোধের জেরে তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে গাজীপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও যশোরে অন্তত ১৮টি কাল্পনিক মামলা করান।

চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, মানব পাচার, এমনকি ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর ধারার এসব মামলায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন। ক্ষমতার অপব্যবহারের এই জাঁতাকলে পড়ে চাচা শ্বশুরকে ২৩ মাস কারাবাসও করতে হয়েছে।

একাধিক গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা প্রধান বিচারপতিসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সুবিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং বিভাগীয় মামলায় এই হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডগুলোও আমলে নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু