Dhaka ১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু ভাঙ্গায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিহত করার আহ্বান দেশে আর কোনো গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা দেখতে চায় না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেমিট্যান্স আহরণ ও সেবা আরও সহজ করতে ওয়ান ব্যাংকের সাথে নগদের কৌশলগত চুক্তি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও থামেনি বিএডিসির বীজ সিন্ডিকেট: বহাল তবিয়তে ‘বঙ্গ অ্যাগ্রিটেক’ মিরপুরে ডিএনসিসির বড় অভিযান: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই হাজার অবৈধ দোকান বন বিভাগে ‘পে-ফিক্সেশন’ বাণিজ্য: ফাইলপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ, জিম্মি সাধারণ কর্মচারীরা পঞ্চগড় বোদা ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য: তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভিডিও ভাইরালের পর ক্ষোভ কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে ২ কোটি টাকার চাল ও ধান আত্মসাৎ: দুদকের মামলা চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীতে অভিযান: ১ লাখ মিটার জাল ও ২৫০ কেজি ইলিশসহ আটক ৩

প্রশাসনে বদলি ও পদায়ন বাণিজ্য: লটারি পদ্ধতি হতে পারে দুর্নীতির কার্যকর দাওয়াই

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : ০২:২৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৪ বার

বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির অন্যতম প্রধান উৎস হলো ‘নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য’। একটি সংঘবদ্ধ দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও বদলিতে তদবিরের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে আসছে। সরকারের পালাবদল ঘটলেও এই চক্রের চরিত্র বদলায় না; বরং তারা নব্য শাসকদের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়ে বহাল তবিয়তে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যায়। ফলস্বরূপ, প্রশাসনে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারও বদনামের ভাগিদার হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যে কর্মকর্তা বা কর্মচারী বিপুল অংকের ঘুষ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পদে আসীন হন, তার প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় সেই বিনিয়োগের টাকা তোলা। এরপর তারা ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন এবং ওই কর্মকর্তা বা কর্মচারীরাও জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে চলে যান। সচিবালয় থেকে শুরু করে একদম নিম্নস্তর পর্যন্ত—আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, বিচার বিভাগ, ব্যাংক-বীমা, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রকৌশল দপ্তরে এই বদলি বাণিজ্যের শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত।

এই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমনে বর্তমান সরকারের নেওয়া কিছু পদক্ষেপ আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে, আইন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি প্রক্রিয়া একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। অতীতে গুলশান, গাজীপুর, রূপগঞ্জ কিংবা কেরানীগঞ্জের মতো লাভজনক এলাকাগুলোয় সাব-রেজিস্ট্রার পদায়ন নিয়ে রীতিমতো নিলাম বসত। লটারি পদ্ধতি চালু হওয়ার পর এই খাতে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। লটারির মাধ্যমে দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তারা ঘুষের মানসিকতা থেকে মুক্ত হয়ে জনগণের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতা বাড়াতে শুরু করেছেন।

সাব-রেজিস্ট্রার পদে কিছুটা স্বস্তি মিললেও রাষ্ট্রে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে এখনও তদবির ও উৎকোচের রাজত্ব কমেনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: দেশের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত খাত থানাকেন্দ্রিক পুলিশ প্রশাসন। অতীতে অভিজাত এলাকার একটি থানার ওসির (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) চেয়ার পেতে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হওয়ার নজির রয়েছে। কনস্টেবল নিয়োগ বা বদলিতেও লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগ পুরনো।

স্বাস্থ্য খাত: চিকিৎসকদের ঢাকামুখী প্রবণতার সুযোগ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও অতীতে ব্যাপক রদবদল হয়েছে। চিকিৎসকরা জেলা-উপজেলায় না থেকে তদবির করে ঢাকা ও তার আশপাশে থাকতে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করেন, যার ফলে গ্রামের সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়।

অন্যান্য দপ্তর: গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ও বীমার এমডি বা প্রধান নির্বাহী পদায়ন নিয়েও কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য চলে আসছে। অতীতে কিছু ক্ষেত্রে প্রধান প্রকৌশলীর পদ বা এমডি পদ পাওয়ার পেছনে বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

দুর্নীতির এই উৎসমুখ পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে লটারি পদ্ধতিকে কেবল এক বা দুই বিভাগে সীমাবদ্ধ না রেখে সরকারের সব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। ইতোমধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলিতেও লটারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিচের ক্ষেত্রগুলোতেও লটারি পদ্ধতি কার্যকর করা যেতে পারে:
১. জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়ন: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ফিট লিস্টে থাকা যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে লটারি চালুর মাধ্যমে ডিসি নিয়োগ দিলে এ সংক্রান্ত চিরচেনা বিতর্ক ও তদবির বাণিজ্য এড়ানো সম্ভব হবে।
২. থানার ওসি ও পুলিশ বদায়ন: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে স্বচ্ছতা ফেরাতে এই পদ্ধতি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
৩. ব্যাংক-বীমা ও স্বাস্থ্য খাত: রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ও বীমার এমডি এবং চিকিৎসকদের পদায়নেও এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেতে পারে।

একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি কোনো প্রকার ঘুষ বা তদবির ছাড়াই কেবল যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন পান, তবে তিনি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবেন। তাই সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে সফল ও টেকসই করতে সব সরকারি দপ্তরে পর্যায়ক্রমে লটারিভিত্তিক বদলি ও পদায়ন পদ্ধতি চালু করা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু