
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি)। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসনিক সংস্কারের হাওয়া লাগলেও ইইডির কার্যক্রমে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, সাবেক ক্ষমতাসীন দলের অনুসারী ও ‘বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের’ একশ্রেণির প্রভাবশালী কর্মকর্তা এখনো অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পদগুলো দখল করে আছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি, বদলি-বাণিজ্য, ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং অগ্রিম বিল পরিশোধের মতো অনিয়মে জড়িত থাকার পরেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো জোনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা মোজাহিদুল ইসলাম আলিফ-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট দালিলিক প্রমাণ থাকলেও তিনি পার পেয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাজধানীর কাফরুল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকার ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পে কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারকে অবৈধভাবে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার অগ্রিম বিল (মোট ২ কোটি ৩৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা) পরিশোধ করা হয়। বিভাগীয় তদন্ত কমিটি তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া সাভার জোনে দায়িত্বে থাকাকালীন কেরানীগঞ্জে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৮০ কোটি টাকার প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি ছাড়াই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ২০ কোটি টাকা অগ্রিম বিল পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তাকে ঢাকা মেট্রো জোনে এনে প্রধান কার্যালয়ের প্রায় ১০০ কোটি টাকার প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নে অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য এবং ঢাকা জেলার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল করীম-এর বিরুদ্ধেও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন সুবিধা নেওয়া এই কর্মকর্তা রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে এখন অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ পদ অর্থাৎ ‘প্রধান প্রকৌশলী’ পদে বসার জন্য জোর লবিং ও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই পদপ্রত্যাশা সৎ ও বঞ্চিত প্রকৌশলীদের মাঝে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
অধিদপ্তরের চলমান এসব অনিয়ম, বদলি-বাণিজ্য ও আর্থিক দুর্নীতির বিষয়ে খোদ প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অধীনস্থ বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের রক্ষা করা এবং দরপত্র মূল্যায়নে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধেও।
শিক্ষা খাতের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন অনিয়ন চলতে থাকলে তা পুরো সেক্টরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। তাই দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অতীতে সংঘটিত আর্থিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বদলি-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অনলাইন ডেস্ক 





















