Dhaka ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু ভাঙ্গায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিহত করার আহ্বান দেশে আর কোনো গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা দেখতে চায় না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেমিট্যান্স আহরণ ও সেবা আরও সহজ করতে ওয়ান ব্যাংকের সাথে নগদের কৌশলগত চুক্তি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও থামেনি বিএডিসির বীজ সিন্ডিকেট: বহাল তবিয়তে ‘বঙ্গ অ্যাগ্রিটেক’ মিরপুরে ডিএনসিসির বড় অভিযান: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই হাজার অবৈধ দোকান বন বিভাগে ‘পে-ফিক্সেশন’ বাণিজ্য: ফাইলপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ, জিম্মি সাধারণ কর্মচারীরা পঞ্চগড় বোদা ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য: তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভিডিও ভাইরালের পর ক্ষোভ কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে ২ কোটি টাকার চাল ও ধান আত্মসাৎ: দুদকের মামলা চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীতে অভিযান: ১ লাখ মিটার জাল ও ২৫০ কেজি ইলিশসহ আটক ৩

কিশোরগঞ্জে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : ০৬:০৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার

কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরে (পিডব্লিউডি) কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ১৪ জন স্থানীয় ঠিকাদারের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগীয় অফিস পরিদর্শন করে। এ সময় তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং অনিয়মের অভিযোগের সাথে জড়িত বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রেকর্ডপত্র পরীক্ষা এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর টিমটি এমন কিছু প্রাথমিক প্রমাণ পায় যা আরও গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপি, কাজ প্রদানে স্বজনপ্রীতি, অনিয়মিত বিল পরিশোধ, সন্দেহজনক আত্মসাৎ এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহার।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর ঠিকাদাররা একটি লিখিত অভিযোগ দুদক, গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী এবং কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন।

প্রধান অভিযোগগুলোর একটি হলো— ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ঠিক আগে কিশোরগঞ্জ মডেল মসজিদ প্রকল্পের আওতায় ২৭টি টেন্ডার পরিচালনা করা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, গত ২১ জুন উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির (OTM) আওতায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়, পরের দিন (২২ জুন) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ২৩ জুন কাজের বিলের বিপরীতে চেক ইস্যু করা হয়।

তারা আরও অভিযোগ করেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর পছন্দের মাত্র পাঁচজন ঠিকাদারকে ২৭টি চুক্তির সবকটিই প্রদান করা হয়েছে। এটি প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া ও সরকারি কেনাকাটার বিধিমালা সঠিকভাবে মানা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন জোরালো করেছে।

অভিযোগকারীরা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অন্তত ৩৫টি কাজের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (OTM)-এর ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, এই কাজগুলোর অনেকগুলোই সীমিত দরপত্র পদ্ধতি (LTM)-এর মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করা উচিত ছিল।

এছাড়া, বেশ কয়েকটি টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি পর্যাপ্তভাবে প্রচার করা হয়নি, যা প্রতিযোগিতাকে সীমিত করেছে এবং সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে তারা দাবি করেন।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেনাকাটার ক্ষেত্রেও অনুরূপ অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়; যেখানে অভিযোগকারীদের মতে অনুপযুক্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি ছোট ঠিকাদার সিন্ডিকেটকে কাজ দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগপত্রে বেশ কিছু সরকারি নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ঠিকাদাররা আর্থিক ও procedural অনিয়ম সন্দেহ করছেন।

এর মধ্যে রয়েছে— কিশোরগঞ্জ মডেল মসজিদ, মিঠামইন শিল্পকলা একাডেমি, একটি আইনজীবী ভবন এবং বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়ির নির্মাণ কাজ।

মিঠামইন শিল্পকলা একাডেমি প্রকল্পে বাউন্ডারি ওয়াল ও পাইলিং কাজের অগ্রিম বিল পরিশোধ এবং এর ডিজাইনে পরিবর্তনের অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ঠিকাদাররা।

তারা আরও অভিযোগ করেন, বার্ষিক প্রকিউরমেন্ট প্ল্যান (APP)-এর অন্তর্ভুক্ত কাজের অর্থ প্রদানে গড়িমসি বা আটকে রাখা হয়েছে, অথচ ভুয়া বিল ও ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।

তবে এই অভিযোগগুলো এখনও স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য কেনাকাটা ও আর্থিক নথিপত্রের বিস্তারিত পরীক্ষা-নির্জা প্রয়োজন।

আর্থিক অসদাচরণ ও ব্যাখ্যাতীত সম্পদের অভিযোগ
নির্বাহী প্রকৌশলীর সরকারি বাসভবন সংস্কারে ব্যয় এবং ঠিকাদারদের ৫ শতাংশ জামানতের (সিকিউরিটি ডিপোজিট) অর্থ হ্যান্ডলিং নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ঠিকাদাররা।

তারা অভিযোগ করেন, ঈদুল আজহার আগে ঢাকার একজন ঠিকাদারের নামে ৯টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। যদিও অভিযোগপত্রে এই লেনদেনগুলোকে সন্দেহজনক আত্মসাৎ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, তবে এর পেছনের পরিস্থিতি ও বৈধতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা বাকি।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন যে, অনিয়মের লব্ধ অর্থ দিয়ে প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর নাটরে দুটি বাড়ি এবং ঢাকায় ১০ তলা একটি ভবন নির্মাণ করেছেন।

তবে এই সম্পত্তিগুলোর মালিকানা, অর্থায়ন এবং তহবিলের উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্যে অভিযুক্ত সম্পদ ও আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থের মধ্যে কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ মেলেনি।

অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে— নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা, সরকারি গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহার এবং অনুমতি ছাড়া ঢাকায় অবস্থান।

ঠিকাদারদের দাবি, প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর সপ্তাহে মাত্র দুই বা তিন দিন অফিসে আসেন। তারা হাজিরা খাতা, গাড়ি ব্যবহারের লগবুক এবং সরকারি ছুটির রেকর্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করার দাবি জানান।

সরকারি কোয়ার্টার অবহেলার শিকার হওয়ার অভিযোগ
পাশাপাশি, পাট গবেষণা কেন্দ্রের সরকারি আবাসিক কোয়ার্টারের প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

তাদের দাবি, কোয়ার্টারে বসবাসকারী ছয়টি পরিবার ভবনের বেহাল দশার কারণে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ভবনটি এরপর থেকে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে, যা সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং সরকারি জমি জবরদখল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

নির্বাহী প্রকৌশলীর অভিযোগ অস্বীকার
এদিকে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন Jahangir এগুলোকে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

তিনি জানান, তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদার তাদের কাঙ্ক্ষিত সুবিধা না পেয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

জাহাঙ্গীর আরও দাবি করেন যে, সংশ্লিষ্ট বিভাগ এর আগেও এই অভিযোগগুলো তদন্ত করেছে এবং এর সত্যতা পায়নি। তবে তার এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারীরা টেন্ডার বিজ্ঞাপন, দরপত্র মূল্যায়ন, চুক্তি, পেমেন্ট রেকর্ড, বিল ও ভাউচারসহ পুরো কেনাকাটা প্রক্রিয়ার একটি সামগ্রিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে যেন জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর স্থানীয় শাখা কিশোরগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি স্বপন বর্মন বলেন, সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।

তিনি জানান, দোষ প্রমাণিত হলে যেমন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তেমনি অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সম্মান ও অবস্থান পরিষ্কার করা দরকার।

দুদকের এই প্রাথমিক তদন্তের পর পুরো বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে, প্রাথমিক এই মূল্যায়ন কোনো চূড়ান্ত অপরাধ বা দুর্নীতির আইনি প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয় না।

কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে আরও কিছু যুক্ত করতে চান বা সম্পাদনা প্রয়োজন হলে আমাকে জানাতে পারেন!

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু