Dhaka ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
উরুর চোটে মাঠের বাইরে জোয়াও পেদ্রো ভূরুঙ্গামারীতে ৪ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইলসহ আন্তঃজেলা চোরাকারবারি চক্রের প্রধান গ্রেফতার ভোর রাতে গোবিপ্রবির বনলতা ও অপরাজিতা হলে চুরি: নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের সমুদ্রের প্রলয়ংকরী ঝড়ের নামকরণ যেভাবে হয়, আসছে যে ১০ নাম ছোটপর্দায় নতুন যাত্রায় অভিনেত্রী নূপুর আহসান, আসছে ৭টি নতুন প্রজেক্ট ৬৬ বছরের ইতিহাসে সেরা অঘটন দেখল বিশ্ব বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি সোনা ছিনতাই: ৪ জন গ্রেপ্তার, ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার টাইব্রেকারের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে সিশেলসকে হারিয়ে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বাংলাদেশ অদক্ষ নয়, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: আরিফুল হক চৌধুরী গোপালগঞ্জে শিশু তালহা হত্যা মামলা: দুইজনের ফাঁসি, একজনের যাবজ্জীবন

ভোটার আইডি থাকতেও তা লুকিয়ে ৮ বছর বয়স কমানোয় চাঞ্চল্য

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-৯ (ধলপুর) কার্যালয় এখন জন্মসনদ জালিয়াতি ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ভুয়া কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করে সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে জন্মসনদ দেওয়ার রমরমা বাণিজ্য চলছে এই দপ্তরে। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো—জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের মূল আইডি বা পাসওয়ার্ড এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের চূড়ান্ত ক্ষমতা যার হাতে থাকে, সেই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে থাকা মো. মোক্তার হোসেনের কার্যালয়ের নাকের ডগায় কীভাবে এমন চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি সংঘটিত হলো, তা নিয়ে এখন তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জোন-৯ কার্যালয় থেকে সম্প্রতি এক নারী আবেদনকারীর বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকা সত্ত্বেও তা সম্পূর্ণ গোপন রেখে বা যাচাই না করে জন্মসনদ তৈরি করা হয়েছে। ওই নারীর প্রকৃত বয়স থেকে এক ধাক্কায় ৮ বছর বয়স কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যার স্থায়ী ঠিকানা ও জন্মস্থান স্পষ্টতই যশোর সদর উপজেলায়, তাঁকে কোনো প্রকার সঠিক প্রমাণপত্র বা এখতিয়ার ছাড়াই ঢাকার জোন থেকে জন্মসনদ প্রদান করা হয়েছে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী, যেকোনো জন্মসনদ চূড়ান্তভাবে এন্ট্রি বা অনুমোদন দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তার মূল ইউজার আইডি ও ডিজিটাল স্বাক্ষর বা সিল ব্যবহৃত হয়। জোন-৯-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোক্তার হোসেনের দপ্তরে এই মূল নিবন্ধনের আইডি ও নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি থাকা সত্ত্বেও কার অদৃশ্য ইশারায় বা কার সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই অবৈধ সনদ ইস্যু করা হলো—তা নিয়ে গভীর রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তার অজান্তে বা তাঁর দপ্তরের সিস্টেমের অপব্যবহার করে এত বড় জালিয়াতি হওয়া অসম্ভব। এই পুরো সিন্ডিকেটের পেছনে সহকারী নিবন্ধক নুরুল ইসলামসহ অসাধু চক্র জড়িত থাকলেও মূল আইডি রক্ষাকারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
টাকার বিনিময়ে রাষ্ট্রীয় ডেটাবেজ ম্যানিপুলেট করা এবং ভুয়া তথ্য দিয়ে সরকারি জন্মসনদ ইস্যু করার এই চক্রটিকে উন্মোচন করতে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী দল মাঠে নেমেছে। খুব শিগগিরই এই চাঞ্চল্যকর অনিয়মের নথি ও প্রমাণাদিসহ সাংবাদিক দলটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মহোদয় (জনাব মো. আবদুস সালাম)-এর দপ্তরে সরাসরি উপস্থিত হবে।
সেখানে প্রশ্ন তোলা হবে—আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোক্তার হোসেনের দায়িত্বে থাকা জোনে কীভাবে মূল আইডি অপব্যবহার করে এমন দুর্নীতি চলছে এবং প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি কোথায়? রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত প্রতিটি দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

উরুর চোটে মাঠের বাইরে জোয়াও পেদ্রো