Dhaka ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু ভাঙ্গায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিহত করার আহ্বান দেশে আর কোনো গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা দেখতে চায় না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেমিট্যান্স আহরণ ও সেবা আরও সহজ করতে ওয়ান ব্যাংকের সাথে নগদের কৌশলগত চুক্তি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও থামেনি বিএডিসির বীজ সিন্ডিকেট: বহাল তবিয়তে ‘বঙ্গ অ্যাগ্রিটেক’ মিরপুরে ডিএনসিসির বড় অভিযান: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই হাজার অবৈধ দোকান বন বিভাগে ‘পে-ফিক্সেশন’ বাণিজ্য: ফাইলপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ, জিম্মি সাধারণ কর্মচারীরা পঞ্চগড় বোদা ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য: তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভিডিও ভাইরালের পর ক্ষোভ কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে ২ কোটি টাকার চাল ও ধান আত্মসাৎ: দুদকের মামলা চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীতে অভিযান: ১ লাখ মিটার জাল ও ২৫০ কেজি ইলিশসহ আটক ৩

সাতক্ষীরায় প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতা: তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং সহকারী শিক্ষকদের মানসিকভাবে হেনস্তা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন—সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এস এম মফিজুল ইসলাম, কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাছরুরা খানম এবং শ্যামনগর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হুমায়ুন কবির।

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক নাহিদ সুলতানা (যিনি ২০০৪ সাল থেকে সেখানে কর্মরত আছেন) প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা অফিস।

লিখিত অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে:

অর্থ আত্মসাৎ: বিদ্যালয়ের পুরোনো বেঞ্চ, ফ্যান এবং মূল ফটক বিক্রির টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ।

সরকারি বরাদ্দে নয়ছয়: স্লিপ ফান্ড, কন্টিনজেন্সি, প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম এবং জাতীয় দিবস উদযাপনের সরকারি বরাদ্দের সুনির্দিষ্ট হিসাব চাওয়ায় শিক্ষকদের মুখ বন্ধ রাখতে হুমকি দেওয়া এবং অপমান করা।

অমানবিক আচরণ: শ্রেণিকক্ষে বা ফাঁকা সময়ে শিক্ষকেরা কার্যালয়ে ফ্যান বা লাইট ব্যবহার করলে প্রধান শিক্ষক তা নিজে গিয়ে বন্ধ করে দেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সামনে সহকর্মীদের ‘অযোগ্য’ বলে অপমান করা এবং অনুমতি ছাড়া শিক্ষকদের গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর মতো অপেশাদার আচরণ।

দপ্তরিকে অপব্যবহার: বিদ্যালয়ের দপ্তরিকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের এহেন আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে এর আগে তাহেরা পারভীন নামের আরেক সহকারী শিক্ষক বাধ্য হয়ে প্রেষণে অন্য বিদ্যালয়ে চলে গেছেন। এছাড়া অতীতে ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের একটি ঘটনায়ও তদন্ত হয়েছিল এবং অভিযোগে সত্যতা মেলায় সরকারি বিধি মোতাবেক ব্যাংক চালানের মাধ্যমে সেই অর্থ ফেরত দিতে হয়েছিল বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমীন জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিয়মানুযায়ী পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু