
বদলি বাণিজ্য রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলীকে বদলি ও পদায়ন করা হলেও এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক। লটারি প্রক্রিয়ায় কারসাজি, গ্রেডিং শিটে পরিবর্তন, জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতা উপেক্ষা এবং পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে বসানোর গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এই পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
এর আগে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো বদলি বাণিজ্য চিরতরে বন্ধ করা, সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য জায়গায় সুযোগ দেওয়া। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), আগস্টে ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল) এবং গত ১৬ আগস্ট ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী ও ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীসহ মোট ১ হাজার ৪৩০ জনকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে। রূপপুর প্রকল্পের বদনাম ঘুচিয়ে গণপূর্ত বিভাগকে একটি গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার লক্ষ্যের কথাও জানান তিনি।
সরকারের এমন সদিচ্ছার কথা বলা হলেও অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলীদের এ-প্লাস, এ, বি, সি ও ডি—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে পদায়নের কথা বলা হলেও ক্যাটাগরি নির্ধারণের কোনো স্পষ্ট লিখিত মানদণ্ড বা মূল্যায়নপদ্ধতি মানা হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে:
পূর্বনির্ধারিত পদায়ন: লটারির আগেই ঢাকার চার-পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মবিভাগে কাদের পদায়ন করা হবে তা ঠিক করা ছিল।
গ্রেডিং শিটে কারসাজি: গ্রেডিং শিটে পরিবর্তন এনে নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আ ন ম মাজহারুল ইসলাম, মো. জিয়াউর রহমান, আহসান হাবীব, রেজা তাইমুর মালিক, মাসুম বিল্লাহ ও রাশেদ আহসানসহ কয়েকজনের নাম সামনে এনে তাদের পদায়ন প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন: সংসদ ভবন, এমপি হোস্টেল, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, এনএসআই ও দুদকের সদর দপ্তরের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পদায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনুমোদন এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ: সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আত্মীয় ও বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতা প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহর ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এ পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এছাড়া লটারির সময় একই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের কারও নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও কারও নাম বাদ পড়ার বিষয়টিও বৈষম্যমূলক বলে দাবি করা হচ্ছে।
মাত্র এক মাসের ব্যবধানে প্রায় দেড় হাজার প্রকৌশলীর বদলির ঘটনায় নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তো বটেই, এর আড়ালে একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রায় ১২০ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী এবং নিকটাত্মীয়দের নামে অর্জিত সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাষ্টরের অতি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকৌশলী পদায়নে যদি কোনো ধরনের অনিয়ম বা রাজনৈতিক প্রভাবের আশ্রয় প্রশ্রয় থাকে, তবে তা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সরকারের মহৎ উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এমন সব অভিযোগ দ্রুত নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।
অনলাইন ডেস্ক 






















