
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নিখোঁজের চার দিন পর মো. শামিম (২৩) নামের এক পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ বাড়ির পাশে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে স্থানীয় অনিক নামের এক যুবকের দেওয়াতথ্যের ভিত্তিতে বস্তাবন্দী অবস্থায় এই লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শামিম উপজেলার ভাদ্রা ইউনিয়নের পং ভাদ্রা গ্রামের বিল্লাল মল্লিকের ছেলে। তিনি ‘সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি’র শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
যেভাবে নিখোঁজ ও মুক্তিপণ দাবি:
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট (শুক্রবার) বিকেলে ভিকন ভাদ্রা গ্রামের অনিক ফোনে ডেকে নেওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ হন শামিম। সন্ধান না পেয়ে ২৩ আগস্ট নাগরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা। নিখোঁজের পর শামিমের মোবাইল থেকে পরিবারের কাছে কল করে ৩০ মিনিটের মধ্যে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং পরপরই ফোনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তদন্ত ও লাশ উদ্ধার:
ঘটনার তদন্তে নেমে শামিমের মোবাইল কললিস্টের সূত্র ধরে ২৪ আগস্ট রাতে অনিককে আটক করে পুলিশ। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অনিক স্বীকার করেন যে, তিনি শামিমকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন এবং লাশ বাড়ির পাশে মাটিচাপা দিয়ে রেখেছেন। পরবর্তীতে তার বাড়ি থেকে শামিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে অনিকের দেখানো স্থান থেকে মাটি খুঁড়ে শামিমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ।
আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের বক্তব্য:
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বিল্লাল মল্লিক বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তিনি তার ছেলে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, “সন্দেহভাজন অনিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা বের করতে অধিকতর তদন্ত চলছে।”
অনলাইন ডেস্ক 

























