
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তরে দাপ্তরিক তথ্য পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা গাজী মোকছেদের বিরুদ্ধে। একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত এসব অপকর্মের কারণে মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের মূল বিষয়সমূহ:
-
অবৈধ প্লট ও ফ্ল্যাটের মালিকানা: নিয়ম অনুযায়ী একই ব্যক্তি ফ্ল্যাট ও প্লট উভয়টি সরকারি বরাদ্দে পেতে পারেন না। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি লালমাটিয়ার স্বপ্নপুরী আবাসনে একটি ফ্ল্যাট (বি-৯) এবং রাজউকের ঝিলমিল প্রকল্পে একটি প্লট (সেক্টর-০৪, রোড-১৪, প্লট-১০) বাগিয়ে নেন। এছাড়া মিরপুর রূপনগর ও ইস্কাটনে তাঁর ফ্ল্যাট এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
-
তথ্য পাচার ও ষড়যন্ত্র: বিগত ১৭ বছর ধরে তৎকালীন সচিবদের সঙ্গে কাজ করার সুবাদে এখনও তাদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি অর্থের বিনিময়ে মন্ত্রণালয়ের স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরে পাচার করে বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছেন।
-
পদোন্নতিতে জালিয়াতি: কম্পিউটার পরিচালনায় অদক্ষ হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন।
-
তদবির ও ফাইল বাণিজ্যের সিন্ডিকেট: সচিবের দপ্তরে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়লে বা কোনো ফাইল এলে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ফোন করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতেন। টাকা দিলে ফাইল সচল করা বা অভিযোগ গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সচিবালয়ে তোলপাড় ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি:
সচিবের দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান করায় এই সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব, প্লট-ফ্ল্যাট বরাদ্দের নথি ও ব্যাংক লেনদেন নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অনলাইন ডেস্ক 





















