
প্রতিবাদের জন্য এখন আর রাজপথে নামার প্রয়োজন নেই, হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ারও দরকার নেই—একটি কিবোর্ড আর ওয়েবসাইটই হয়ে উঠেছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শক্তিশালী হাতিয়ার। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর ১৭ বছর বয়সী তরুণ শাহেদ শরীফ আহমেদ গড়ে তুলেছেন ‘ঘুস.সাইট’ (ghus.site) নামের একটি প্ল্যাটফর্ম, যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাইটটি চালুর মাত্র ১২ দিনের মাথায় জমা পড়েছে ১২ হাজার ২০২টি ঘুসের অভিযোগ। ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এসব ঘটনায় দাবি করা ঘুসের মোট পরিমাণ প্রায় ৩৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
উদ্যোগের নেপথ্য কারণ
ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বসবাসরত শাহেদ কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলের শিক্ষার্থী। ২০২২ সালে তার মা আমিনা খাতুনের মৃত্যুর পর সরকারি পাওনা টাকা তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন তার বাবা শরিফুল ইসলাম শামীম। প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রায় সাত লাখ টাকা তুলতে গিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ৩৮ হাজার টাকা ঘুস দিতে বাধ্য হন তিনি। এরপর কল্যাণ তহবিল ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আরও ১০ লাখ টাকা তুলতে অতিরিক্ত এক লাখ টাকা ঘুস দাবি করা হয়, যার মধ্যে ৮০ হাজার টাকা ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি নিজের ও-লেভেল পরীক্ষার জন্য পাসপোর্ট করতে গিয়েও ঘুসের মুখোমুখি হতে হয় শাহেদকে। নিজের ও পরিবারের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই ঘুসের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রতিবাদের পথ বেছে নেন তিনি।
যেভাবে যাত্রা শুরু
শাহেদ মাত্র দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ওয়েবসাইটটির প্রাথমিক অবকাঠামো তৈরি করেন। পরবর্তীতে বন্ধু ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাইফ কবিরের সহায়তায় ডোমেইন কিনে গত ২১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ঘুস.সাইট’ চালু করেন।
-
টিম ও পরিচালনা: শাহেদ কারিগরি ও কোডিংয়ের বিষয়টি দেখভাল করছেন এবং সাইফ কবির পরিচালনা করছেন মার্কেটিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাজ। অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য তাদের চার সদস্যের একটি মডারেশন দল রয়েছে। পুরো উদ্যোগটি বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা।
-
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা: উদ্যোগটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও শাহেদ ও তার পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন। শাহেদ জানান, তিনি নানা ধরনের হুমকির মুখে আছেন এবং বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। তার বাবা সরকারের কাছে পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ ও কর্তৃপক্ষের দায়
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন খাতে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেসব হয়রানি ও দুর্নীতি ঘুস দাবির মুখোমুখি হচ্ছেন, এই ওয়েবসাইটটি তার একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের অভিযোগ সামনে আসার পর এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—এসব তথ্য কি কেবল ওয়েবসাইটের পাতার ডেটা হিসেবেই থেকে যাবে, নাকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে?
অনলাইন ডেস্ক 

























