Dhaka ০২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ঠিকাদার-নির্ভর আসবাব কেনে গণপূর্ত,নিজস্ব কারখানা অচল সুনামগঞ্জে ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধ বালু লুটপাট বন্ধ ও ইজারা চালুর দাবিতে মানববন্ধন চাঁদপুরে ভোক্তার অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা গুজবে কান নয়, তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করুন: আইসিটি মন্ত্রী রাঙামাটিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে দা দিয়ে কোপের অভিযোগ, হাসপাতালে মৃত্যু সাবেক তাঁতীলীগ নেতা এখন সাংবাদিক, ঘিরে উঠছে একের পর এক অভিযোগ টেকনাফে সন্ত্রাসী হামলায় আহত সাংবাদিক জামালকে হাসপাতালে দেখতে বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গোপালগঞ্জে ট্রাক ও নসিমনের সংঘর্ষে কিশোর নিহত, আহত-২ উত্তরা ১৪ নাম্বর সেক্টরে রাস্তার ওপর অবৈধ স্থাপনার অভিযোগ, দ্রুত উচ্ছেদের দাবিতে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ নবনিযুক্ত ইউএনও লিখন বণিককে নাগরপুর জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার অভিনন্দন

নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ বাবার

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর এলাকায় নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে চার বছরের শিশু হাফিজুল শিকারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা হানিফ শিকারী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে দাবি করেছে শিশুটির নানাবাড়ির লোকজন। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

নিহত হাফিজুল শিকারীর বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার ধানুকা এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদের আগে মা নাদিয়া বেগম ছেলেকে নিয়ে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। বুধবার শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।

নিহতের বাবা হানিফ শিকারী অভিযোগ করে বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে তার একমাত্র ছেলে হাফিজুলকে হত্যা করা হয়েছে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পানিতে পড়ে মৃত্যুর গল্প প্রচার করা হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কালকিনি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি; বরং বিষয়টি মীমাংসা করার পরামর্শ দেয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অন্যদিকে, নিহত শিশুর নানা বাদল খান হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার মেয়ে নাদিয়া বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন। নদীর পাশে যাওয়ার সময় মা ও ছেলে দুজনই পানিতে পড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন নাদিয়াকে উদ্ধার করলেও শিশুটি পানির স্রোতে ভেসে যায়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এটি একটি দুর্ঘটনা, হত্যার কোনো ঘটনা নয় বলে দাবি করেন তিনি।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে কালকিনি থানার পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

ঠিকাদার-নির্ভর আসবাব কেনে গণপূর্ত,নিজস্ব কারখানা অচল

নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ বাবার

আপডেট টাইম : ০৫:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর এলাকায় নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে চার বছরের শিশু হাফিজুল শিকারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা হানিফ শিকারী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে দাবি করেছে শিশুটির নানাবাড়ির লোকজন। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

নিহত হাফিজুল শিকারীর বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার ধানুকা এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদের আগে মা নাদিয়া বেগম ছেলেকে নিয়ে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। বুধবার শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।

নিহতের বাবা হানিফ শিকারী অভিযোগ করে বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে তার একমাত্র ছেলে হাফিজুলকে হত্যা করা হয়েছে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পানিতে পড়ে মৃত্যুর গল্প প্রচার করা হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কালকিনি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি; বরং বিষয়টি মীমাংসা করার পরামর্শ দেয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অন্যদিকে, নিহত শিশুর নানা বাদল খান হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার মেয়ে নাদিয়া বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন। নদীর পাশে যাওয়ার সময় মা ও ছেলে দুজনই পানিতে পড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন নাদিয়াকে উদ্ধার করলেও শিশুটি পানির স্রোতে ভেসে যায়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এটি একটি দুর্ঘটনা, হত্যার কোনো ঘটনা নয় বলে দাবি করেন তিনি।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে কালকিনি থানার পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।