Dhaka ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ঠিকাদার-নির্ভর আসবাব কেনে গণপূর্ত,নিজস্ব কারখানা অচল সুনামগঞ্জে ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধ বালু লুটপাট বন্ধ ও ইজারা চালুর দাবিতে মানববন্ধন চাঁদপুরে ভোক্তার অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা গুজবে কান নয়, তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করুন: আইসিটি মন্ত্রী রাঙামাটিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে দা দিয়ে কোপের অভিযোগ, হাসপাতালে মৃত্যু সাবেক তাঁতীলীগ নেতা এখন সাংবাদিক, ঘিরে উঠছে একের পর এক অভিযোগ টেকনাফে সন্ত্রাসী হামলায় আহত সাংবাদিক জামালকে হাসপাতালে দেখতে বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গোপালগঞ্জে ট্রাক ও নসিমনের সংঘর্ষে কিশোর নিহত, আহত-২ উত্তরা ১৪ নাম্বর সেক্টরে রাস্তার ওপর অবৈধ স্থাপনার অভিযোগ, দ্রুত উচ্ছেদের দাবিতে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ নবনিযুক্ত ইউএনও লিখন বণিককে নাগরপুর জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার অভিনন্দন

ভূরুঙ্গামারীতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ ও উৎকোচ দাবীর অভিযোগ

ভূরুঙ্গামারীতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও উৎকোচ দাবীর অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে প্রধান শিক্ষকরা কুড়িগ্রাম- ১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানাগেছে, গত অর্থ বছরে ঝষওচ (স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্লান) বিদ্যালয় ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রকল্পে ১১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। ২০% হারে ভ্যাট কর্তনের পর প্রতিটি বিদ্যালয় ১২ হাজার থেকে ১৯ হাজার টাকা পাবার কথা। কিন্তু উপজেলা শিক্ষা অফিসার আখতারুল ইসলাম সমুদয় টাকা উত্তোলন করে নিজ একাউন্টে জমা করেন। শুধু তাইনয়, বিদ্যালয় প্রতি ১হাজার ৪’শত টাকা উৎকোচ নিয়ে ১১২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ২৮/৩০টি বিদ্যালয়ে টাকা প্রদান করেছেন। অন্যান্য বিদ্যালয় গুলো উৎকোচ প্রদান নাকরায় তাদের টাকা আটকিয়ে রেখেছেন।
প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য বিদ্যালয় প্রতি ৭ হাজার ৬ শত টাকা বরাদ্দ থাকলেও বিদ্যালয় প্রতি ৫ শত টাকা উৎকোচ নিয়ে উক্ত টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৩০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় উৎকোচ না দেওয়ায় তাদের টাকা এখনো প্রদান করা হয় নাই। গত ২৫-২৬ অর্থ বছরে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য উপজেলার ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেড় লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উক্ত টাকা তুলে নিজ একাউন্টে জমা করেন এবং ৫ থকে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবী করেন। উৎকোচ না দেয়ায় এখনো উক্ত টাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের একাউন্টে জমা রয়েছে।
গত জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোটহাট ও দক্ষিণ চর-ভূরুঙ্গামারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত বাবদ ১ লক্ষ করে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু উক্ত বিদ্যালয়ে কোন অর্থ প্রদান নাকরে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানাগেছে। উপজেলার ৩৯ জন নৈশ প্রহরীর বেতন বাবদ ২ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এ টাকা দিয়ে ১৫ জন নৈশ প্রহরীর বেতন হবার কথা কিন্তু উৎকোচের বিনিময়ে মাত্র ২/৩ জন নৈশ প্রহরীকে বেতন প্রদান করেন। অবশিষ্ট নৈশ প্রহরীরা উৎকোচ প্রদান না করায় তাদের বেতনের টাকা ফেরৎ পাঠানো হয়েছে বলে জানাগেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানান আমরা বহুদিন টাকা খরচ করে ভাউচার দাখিল করেছি। পরবর্তীতে ভাউচারের কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি ঠিক করার জন্য বলা হয়। আমরা সেটাও ঠিক করে দিয়েছি কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এখনো একাউন্টে টাকা জমা হয় নাই। আমরা শুনেছি যারা উৎকোচ দিয়েছে তারাই টাকা পেয়েছে। আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের একটি সারকারি প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের সাথে যারা যোগাযোগ করেছে তারাই টাকা পেয়েছে।
উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার আখতারুল ইসলাম মোবাইল ফোন ধরে সাংবাদিক পরিচয় পাবার পর হ্যালো হ্যালো বলে ফোন কেটে দেন এবং আর ফোন ধরেননি।
জানাগেছে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আখতারুল ইসলাম রংপুর থেকে অফিস করেন। তিনি সোম, মঙ্গল ও বুধবার অফিস করেন। এর ফলে বিভিন্ন কাজে আসা শিক্ষকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান, আমি এখনই উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অফিসে পাঠাচ্ছি। স্লিপের টাকা ও ভোট কেন্দ্র মেরামতের টাকা বিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।
কুড়িগ্রাম- ১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আমি হোয়াটস আপে এরকম একটি দরখাস্ত পেয়েছি। এব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

ঠিকাদার-নির্ভর আসবাব কেনে গণপূর্ত,নিজস্ব কারখানা অচল

ভূরুঙ্গামারীতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ ও উৎকোচ দাবীর অভিযোগ

আপডেট টাইম : ১০:২২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

ভূরুঙ্গামারীতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও উৎকোচ দাবীর অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে প্রধান শিক্ষকরা কুড়িগ্রাম- ১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানাগেছে, গত অর্থ বছরে ঝষওচ (স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্লান) বিদ্যালয় ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রকল্পে ১১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। ২০% হারে ভ্যাট কর্তনের পর প্রতিটি বিদ্যালয় ১২ হাজার থেকে ১৯ হাজার টাকা পাবার কথা। কিন্তু উপজেলা শিক্ষা অফিসার আখতারুল ইসলাম সমুদয় টাকা উত্তোলন করে নিজ একাউন্টে জমা করেন। শুধু তাইনয়, বিদ্যালয় প্রতি ১হাজার ৪’শত টাকা উৎকোচ নিয়ে ১১২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ২৮/৩০টি বিদ্যালয়ে টাকা প্রদান করেছেন। অন্যান্য বিদ্যালয় গুলো উৎকোচ প্রদান নাকরায় তাদের টাকা আটকিয়ে রেখেছেন।
প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য বিদ্যালয় প্রতি ৭ হাজার ৬ শত টাকা বরাদ্দ থাকলেও বিদ্যালয় প্রতি ৫ শত টাকা উৎকোচ নিয়ে উক্ত টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৩০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় উৎকোচ না দেওয়ায় তাদের টাকা এখনো প্রদান করা হয় নাই। গত ২৫-২৬ অর্থ বছরে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য উপজেলার ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেড় লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উক্ত টাকা তুলে নিজ একাউন্টে জমা করেন এবং ৫ থকে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবী করেন। উৎকোচ না দেয়ায় এখনো উক্ত টাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের একাউন্টে জমা রয়েছে।
গত জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোটহাট ও দক্ষিণ চর-ভূরুঙ্গামারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত বাবদ ১ লক্ষ করে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু উক্ত বিদ্যালয়ে কোন অর্থ প্রদান নাকরে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানাগেছে। উপজেলার ৩৯ জন নৈশ প্রহরীর বেতন বাবদ ২ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এ টাকা দিয়ে ১৫ জন নৈশ প্রহরীর বেতন হবার কথা কিন্তু উৎকোচের বিনিময়ে মাত্র ২/৩ জন নৈশ প্রহরীকে বেতন প্রদান করেন। অবশিষ্ট নৈশ প্রহরীরা উৎকোচ প্রদান না করায় তাদের বেতনের টাকা ফেরৎ পাঠানো হয়েছে বলে জানাগেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানান আমরা বহুদিন টাকা খরচ করে ভাউচার দাখিল করেছি। পরবর্তীতে ভাউচারের কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি ঠিক করার জন্য বলা হয়। আমরা সেটাও ঠিক করে দিয়েছি কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এখনো একাউন্টে টাকা জমা হয় নাই। আমরা শুনেছি যারা উৎকোচ দিয়েছে তারাই টাকা পেয়েছে। আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের একটি সারকারি প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের সাথে যারা যোগাযোগ করেছে তারাই টাকা পেয়েছে।
উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার আখতারুল ইসলাম মোবাইল ফোন ধরে সাংবাদিক পরিচয় পাবার পর হ্যালো হ্যালো বলে ফোন কেটে দেন এবং আর ফোন ধরেননি।
জানাগেছে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আখতারুল ইসলাম রংপুর থেকে অফিস করেন। তিনি সোম, মঙ্গল ও বুধবার অফিস করেন। এর ফলে বিভিন্ন কাজে আসা শিক্ষকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান, আমি এখনই উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অফিসে পাঠাচ্ছি। স্লিপের টাকা ও ভোট কেন্দ্র মেরামতের টাকা বিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।
কুড়িগ্রাম- ১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আমি হোয়াটস আপে এরকম একটি দরখাস্ত পেয়েছি। এব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।