Dhaka ০১:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ঠিকাদার-নির্ভর আসবাব কেনে গণপূর্ত,নিজস্ব কারখানা অচল সুনামগঞ্জে ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধ বালু লুটপাট বন্ধ ও ইজারা চালুর দাবিতে মানববন্ধন চাঁদপুরে ভোক্তার অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা গুজবে কান নয়, তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করুন: আইসিটি মন্ত্রী রাঙামাটিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে দা দিয়ে কোপের অভিযোগ, হাসপাতালে মৃত্যু সাবেক তাঁতীলীগ নেতা এখন সাংবাদিক, ঘিরে উঠছে একের পর এক অভিযোগ টেকনাফে সন্ত্রাসী হামলায় আহত সাংবাদিক জামালকে হাসপাতালে দেখতে বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গোপালগঞ্জে ট্রাক ও নসিমনের সংঘর্ষে কিশোর নিহত, আহত-২ উত্তরা ১৪ নাম্বর সেক্টরে রাস্তার ওপর অবৈধ স্থাপনার অভিযোগ, দ্রুত উচ্ছেদের দাবিতে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ নবনিযুক্ত ইউএনও লিখন বণিককে নাগরপুর জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার অভিনন্দন

যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতন, কাটা হলো চুল

রাজশাহীতে চোর সন্দেহে চার যুবককে ধরে মারধর ও মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে রাজশাহী নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিমানচত্বর এলাকার একটি চেম্বারে চার যুবককে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। পরে তাদের শাহ মখদুম থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানচত্বর এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে সিগারেট ও কিছু টাকা চুরির অভিযোগে আব্দুস সামাদ, দেবসহ চার যুবককে আটক করা হয়। পরে তাদের মহানগর যুবদলের সদস্য ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শাকিলুর রহমান রনের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন যুবক তাদের মারধর করেন এবং মাথার চুল কেটে দেন। ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়।এ বিষয়ে কথা বলতে শাকিলুর রহমান রনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্যসচিব মো. বেলাল বলেন, যাদের মারধর করা হয়েছে, তারা এলাকায় চুরির অভিযোগে পরিচিত। তবে কাউকে এভাবে মারধর ও চুল কেটে দেওয়া ঠিক হয়নি।

শাহমখদুম থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা চার জনকে থানায় সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং বুধবার (১ জুলাই) তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে মারধর করা অপরাধ। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার বিচার করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতের। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে মারধর, অপদস্থ বা শাস্তি দেওয়ার অধিকার কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নেই। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এমন প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দিতে পারে বলেও মত দিয়েছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

ঠিকাদার-নির্ভর আসবাব কেনে গণপূর্ত,নিজস্ব কারখানা অচল

যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতন, কাটা হলো চুল

আপডেট টাইম : ১১:৩০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

রাজশাহীতে চোর সন্দেহে চার যুবককে ধরে মারধর ও মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে রাজশাহী নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিমানচত্বর এলাকার একটি চেম্বারে চার যুবককে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। পরে তাদের শাহ মখদুম থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানচত্বর এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে সিগারেট ও কিছু টাকা চুরির অভিযোগে আব্দুস সামাদ, দেবসহ চার যুবককে আটক করা হয়। পরে তাদের মহানগর যুবদলের সদস্য ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শাকিলুর রহমান রনের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন যুবক তাদের মারধর করেন এবং মাথার চুল কেটে দেন। ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়।এ বিষয়ে কথা বলতে শাকিলুর রহমান রনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্যসচিব মো. বেলাল বলেন, যাদের মারধর করা হয়েছে, তারা এলাকায় চুরির অভিযোগে পরিচিত। তবে কাউকে এভাবে মারধর ও চুল কেটে দেওয়া ঠিক হয়নি।

শাহমখদুম থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা চার জনকে থানায় সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং বুধবার (১ জুলাই) তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে মারধর করা অপরাধ। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার বিচার করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতের। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে মারধর, অপদস্থ বা শাস্তি দেওয়ার অধিকার কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নেই। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এমন প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দিতে পারে বলেও মত দিয়েছেন তারা।