Dhaka ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ঠিকাদার-নির্ভর আসবাব কেনে গণপূর্ত,নিজস্ব কারখানা অচল সুনামগঞ্জে ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধ বালু লুটপাট বন্ধ ও ইজারা চালুর দাবিতে মানববন্ধন চাঁদপুরে ভোক্তার অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা গুজবে কান নয়, তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করুন: আইসিটি মন্ত্রী রাঙামাটিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে দা দিয়ে কোপের অভিযোগ, হাসপাতালে মৃত্যু সাবেক তাঁতীলীগ নেতা এখন সাংবাদিক, ঘিরে উঠছে একের পর এক অভিযোগ টেকনাফে সন্ত্রাসী হামলায় আহত সাংবাদিক জামালকে হাসপাতালে দেখতে বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গোপালগঞ্জে ট্রাক ও নসিমনের সংঘর্ষে কিশোর নিহত, আহত-২ উত্তরা ১৪ নাম্বর সেক্টরে রাস্তার ওপর অবৈধ স্থাপনার অভিযোগ, দ্রুত উচ্ছেদের দাবিতে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ নবনিযুক্ত ইউএনও লিখন বণিককে নাগরপুর জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার অভিনন্দন

‎৫ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে দেড় কোটি টাকা জরিমানা

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল নানিয়ারচর উপজেলার কুতুকছড়ি সেতু। দুই জেলার সংযোগ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ কুতুকছড়ি সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পাঁচ বছর পার হলেও এখনো শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই দফায় সময় বাড়িয়েও কাজের কোন অগ্রগতি না হওয়ায় যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।একই সঙ্গে প্রায় দেড় কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। ফলে অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে থাকা সেতুর কারণে দুই জেলার লাখো মানুষকে এখনও বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

‎সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১২ জানুয়ারি কুতুকছড়ি এলাকার পুরোনো বেইলি সেতুটি ভেঙে পড়ার পর যোগাযোগ সচল রাখতে পাশেই একটি অস্থায়ী বেইলি সেতু ও বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হয়। পরে স্থায়ী সমাধান হিসেবে ২০২২ সালের জুলাই মাসে প্রায় ১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮১.৩১ মিটার দৈর্ঘ্যের নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। সাগর ইকো বিল্ডার্স ও রাঙামাটি ট্রেডার্স জেভি নামের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি তারা।

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় সেতুর লোহার বিভিন্ন অংশে মরিচা ধরেছে। এছাড়া নদীর ওপর নির্মিত পিলারগুলো ছাড়া সেতুর নির্মাণকাজে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

‎অন্যদিকে সেতুর পাশের বিকল্প সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহনকে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে কাদা ও পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে যাত্রী, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও পরিবহন চালকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। পাশাপাশি দুই জেলার ব্যবসা বাণিজ্য, কৃষি পণ্য পরিবহন ও পর্যটন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার জন্য একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি। এ কারণে দুই ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রায় দেড় কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দ্রুত নতুন প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে সেতুর অবশিষ্ট নির্মাণকাজ সম্পন্নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎দীর্ঘদিনেও সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে নির্মাণকাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হোক। এতে দুই জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্য ও পর্যটন কার্যক্রমেও স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

ঠিকাদার-নির্ভর আসবাব কেনে গণপূর্ত,নিজস্ব কারখানা অচল

‎৫ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে দেড় কোটি টাকা জরিমানা

আপডেট টাইম : ১১:৩৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল নানিয়ারচর উপজেলার কুতুকছড়ি সেতু। দুই জেলার সংযোগ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ কুতুকছড়ি সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পাঁচ বছর পার হলেও এখনো শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই দফায় সময় বাড়িয়েও কাজের কোন অগ্রগতি না হওয়ায় যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।একই সঙ্গে প্রায় দেড় কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। ফলে অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে থাকা সেতুর কারণে দুই জেলার লাখো মানুষকে এখনও বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

‎সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১২ জানুয়ারি কুতুকছড়ি এলাকার পুরোনো বেইলি সেতুটি ভেঙে পড়ার পর যোগাযোগ সচল রাখতে পাশেই একটি অস্থায়ী বেইলি সেতু ও বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হয়। পরে স্থায়ী সমাধান হিসেবে ২০২২ সালের জুলাই মাসে প্রায় ১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮১.৩১ মিটার দৈর্ঘ্যের নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। সাগর ইকো বিল্ডার্স ও রাঙামাটি ট্রেডার্স জেভি নামের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি তারা।

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় সেতুর লোহার বিভিন্ন অংশে মরিচা ধরেছে। এছাড়া নদীর ওপর নির্মিত পিলারগুলো ছাড়া সেতুর নির্মাণকাজে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

‎অন্যদিকে সেতুর পাশের বিকল্প সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহনকে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে কাদা ও পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে যাত্রী, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও পরিবহন চালকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। পাশাপাশি দুই জেলার ব্যবসা বাণিজ্য, কৃষি পণ্য পরিবহন ও পর্যটন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার জন্য একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি। এ কারণে দুই ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রায় দেড় কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দ্রুত নতুন প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে সেতুর অবশিষ্ট নির্মাণকাজ সম্পন্নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎দীর্ঘদিনেও সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে নির্মাণকাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হোক। এতে দুই জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্য ও পর্যটন কার্যক্রমেও স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে।