
কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন ফরাসি নাগরিক ফিলিপ মারচান্দ (৫২) ও তার কন্যা লিলি (১২)। দীর্ঘ চার মাস ধরে কোনো প্রকার বৈধ ভিসা বা পাসপোর্টের মেয়াদ ছাড়াই তারা নিজেদের বিশেষ ব্যবস্থায় তৈরি কাঠের একটি নৌযানে করে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সেন্টমার্টিনের অদূরে শক্তিশালী ঢেউয়ের তোড়ে তাদের নৌযানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। ট্রলারডুবির পরপরই স্থানীয় জেলেরা ফিলিপের স্ত্রী হেলেন (৪৪) ও বড় ছেলে লিওকে (১৬) জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও বাকি দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
কোস্টগার্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন ভিসায় বাংলাদেশে আসা এই ফরাসি পরিবারটি গত বছর থেকে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে অবস্থান করছিল। একটি বড় কাঠের নৌযানকে তারা ভাসমান বসতি হিসেবে রূপান্তর করে বসবাস শুরু করেন। তবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে তারা উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান পরিবর্তন করে দিনযাপন করছিলেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, “উদ্ধার হওয়া দুই ফরাসি নাগরিকের কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখা গেছে তাদের বাংলাদেশ অবস্থানের মূল ভিসার মেয়াদ চার মাস আগেই শেষ হয়েছে। পাসপোর্টের হালনাগাদ তথ্যও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি দ্রুত ফরাসি দূতাবাসকে অবহিত করা হয়েছে।”
এর আগেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে নৌযানটি কোস্টগার্ডের সতর্কবার্তা পেলেও তারা উপকূল ত্যাগ করেননি বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ডের একটি সূত্র। নিখোঁজ দুই ফরাসি নাগরিকের সন্ধানে সাগরে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উদ্ধার হওয়া সদস্যদের দূতাবাসের প্রতিনিধির হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























