
বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ বা গোপন বন্দিশালার অস্তিত্ব থাকবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট জানান, গুমের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, ভয়ের সংস্কৃতি নির্মূল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়।
বক্তব্যের প্রধান দিকসমূহ:
-
বিচার সুনিশ্চিতকরণ: প্রতিশোধ নয়, বরং আইনের শাসনের মাধ্যমে প্রতিকার নিশ্চিত করাই বর্তমান রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের অধীনে হওয়া সব গুম ও নির্যাতনের নিরপেক্ষ বিচার করা হবে।
-
পরিবারগুলোর পাশে রাষ্ট্র: গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, ও পুনর্বাসনের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
-
গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি: রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতার ওপর সংবিধান ও আইনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
-
স্মরণ ও সম্মান: বক্তব্যে বিগত আমলে গুম হওয়া রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, লেখক ও সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি সোচ্চার আন্দোলনকারীদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা নিজেদের কষ্ট ও দাবির কথা তুলে ধরেন।
অনলাইন ডেস্ক 
























