
ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ।
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর এক বার্তা মারফত নিশ্চিত করেছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই বৃহৎ অর্থনৈতিক চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছে, যার অধীনে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘বোয়িং’-এর কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার আগের বরাদ্দ ও অর্ডারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একটি যুগান্তকারী সমঝোতা হয়েছে। এর ফলে উড়োজাহাজ ক্রয়ে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ঢাকা। তবে কেনাবেচা হতে যাওয়া উড়োজাহাজের সুনির্দিষ্ট মডেল, সংখ্যা কিংবা চুক্তির মোট আর্থিক মূল্যের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
সম্প্রতি (৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট) বাংলাদেশ সফর শেষে রাষ্ট্রদূত এই ঘোষণাটি দেন। অবশ্য তার এই বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকীকরণের পরিকল্পনায় বোয়িং ক্রয়ের প্রাথমিক সংখ্যা ১৪টি থেকে বাড়িয়ে ২৫টি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এপ্রিলে চূড়ান্ত হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, মোট ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা) মূল্যে ১৪টি নতুন বোয়িং কেনার প্রাথমিক ধাপ নির্ধারিত হয়। এতে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার প্রথম চালানটি ২০৩১ সালের নভেম্বরের মধ্যে এবং বাকিগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা।
উল্লেখ্য, বিগত সরকারের আমলে ফ্রাঙ্কো-জার্মান বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারবাস’ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তটি বহাল রাখার দিকেই চূড়ান্ত সায় দেয়।
অনলাইন ডেস্ক 

























