
গণপূর্ত অধিদপ্তরের খুলনা জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত, সিন্ডিকেট গঠন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিগত সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে তিনি আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল ছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আজিমপুরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ঠিকাদারদের কাছ থেকে ১০% কমিশন বাধ্যতামূলক করেছিলেন। কমিশন ছাড়া তিনি কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করতেন না বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন। এছাড়া নিজ বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দের বড় অংশ হাতিয়ে নিয়ে আজিমপুরে এক শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন, যা আজও বিদ্যমান।
অঢেল সম্পদের পাহাড় প্রাথমিক অনুসন্ধানে সাইফুর রহমানের বিপুল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক মূল্য অর্ধশতাধিক কোটি টাকা:
-
ঢাকা: মোহাম্মদপুর ও মিরপুরে দুটি বিলাসবহুল বাড়ি এবং পূর্বাচলে প্লট।
-
টাঙ্গাইল (ঘাটাইল): একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি, বাজার রোডে ৩তলা মার্কেট, সালাউদ্দিন সেনানিবাস মোড়ে ‘সোনারতরী পার্ক’ (পূর্বে এলপিজি ফিলিং স্টেশন) এবং ১ কোটি টাকা মূল্যের জমিতে নির্মিত ‘কাঠবাদাম রেস্টুরেন্ট’।
-
বিদেশ: আমেরিকায় একটি ফ্ল্যাট, যেখানে তাঁর কন্যা বসবাস করছেন।
বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও যোগসাজশ কর্মস্থলে জালিয়াতি ছাড়াও বিগত সরকারের আমলে আলোচিত ঠিকাদার জিকে শামীম ও গোল্ডেন মনিরের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও অর্থায়নে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগের পক্ষে অর্থ জোগান দেওয়ার পেছনেও তাঁর নাম উঠে এসেছে। তৎকালীন সময়ে আজিমপুর বিভাগে কর্মরত একজন নারী হিসাব সহকারীর সঙ্গেও তাঁর সম্পর্কের নানা গুঞ্জন চাউর হয়।
অভিযুক্তের বক্তব্য এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি। তবে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে জানান, টাঙ্গাইলের সম্পদগুলো তাঁর পারিবারিক ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এজমালি সম্পত্তি। অন্যান্য সব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
অনলাইন ডেস্ক 





















