
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে।
তবে এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাসের পর মাস নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের জেলা সভাপতি ড. মো. ওবায়দুল্লাহর বিরুদ্ধে।
তিনি গোদাগাড়ী উপজেলার পালপুর ধরমপুর মহাবিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। একইসঙ্গে তিনি রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি এবং আগামী গোদাগাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত মেয়রপ্রার্থী।
মাঠে রাজনীতি, হাজিরা খাতায় উপস্থিতি
গত সাড়ে তিন মাসের কার্যক্রম এবং তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সপ্তাহের কার্যদিবসগুলোতে কলেজে না গিয়ে তিনি ব্যস্ত থেকেছেন দলীয় কর্মসূচি, মতবিনিময় সভা, ত্রাণ/উপহার সামগ্রী বিতরণ ও নির্বাচনী গণসংযোগে।
-
আগস্ট ও জুলাইয়ের রাজনৈতিক ব্যস্ততা: মে থেকে আগস্ট মাসজুড়ে তিনি সনাতন ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক, সুধী সমাবেশ, জুলাই সনদের দাবিতে গণমিছিল, মৎস্য সপ্তাহের অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি বা বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন। এমনকি মে মাসে ঢাকায় তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দপ্তরেও উপস্থিত ছিলেন তিনি।
-
জাল হাজিরার অভিযোগ: গত ২৪ আগস্ট পালপুর ধরমপুর মহাবিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। অথচ জুলাই ও আগস্টের হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, যেসব দিনে তিনি দলীয় কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন, সেসব দিনেও হাজিরা খাতায় তাঁর উপস্থিতি ও স্বাক্ষর রয়েছে। কেবল ৫ ও ৬ আগস্ট তাঁর ‘সংরক্ষিত ছুটি’ দেখানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন চরম ঝুঁকিতে
২০০ শিক্ষার্থীর এই কলেজে আইসিটি বিষয় সবার জন্য আবশ্যিক। কিন্তু পুরো বিভাগে ড. ওবায়দুল্লাহই একমাত্র শিক্ষক। নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া এবং ল্যাবের কম্পিউটারগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ফলে পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল করতে পারছে না তারা।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ড. ওবায়দুল্লাহর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক জানান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না এবং তিনি এ বিষয়ে অধ্যক্ষকে জরুরি সভা ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ধরণের অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
অন্যদিকে, মাউশি রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (কলেজ) মোহা. সাদিকুল ইসলাম বলেন, কোনো শিক্ষকের এমন ধারাবাহিক অনুপস্থিতির বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনলাইন ডেস্ক 

























